২৭. মিসিসিপির তীরে

চ্যাপ্টার

হেলিকপ্টারের কাছাকাছি যখন ওঁরা পৌঁছল, তখন হেলিকপ্টার মাটি ছেড়ে আকাশে উড়ল।
একটা অট্টহাসি শোনা গেল সেই সাথে। একটা উচ্চস্বর ধ্বনিত হলো। সম্ভবত লাউড স্পীকারে কথা বলা হচ্ছে। কণ্ঠটি মিঃ ডেভিডের।
বলল, ‘আহমদ মুসা, আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। একটা সুখবর দেয়ার জন্য। সেই সাথে বলার জন্যে যে, এই যুদ্ধই শেষ যুদ্ধ নয়। তোমার জন্য সুখবর এই যে, এই মাত্র আমি জর্জ ফার্ডিন্যাডের কাছ থেকে খবর পেলাম যে, তোমার ডাঃ মার্গারেট এবং তোমার লায়লা জেনিফারকে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাঁরা এখন আমাদের সন্মানিত মেহমান। সন্মানিত থাকবে তাঁরা আগামী পনের দিন। যদি আজ থেকে পনের দিনের মধ্যে তুমি আত্নসমর্পন না করো, তাহলে গণ ধর্ষণে নিহত ডাঃ মার্গারেট ও লায়লা জেনিফারের লাশ পড়ে থাকবে মিয়ামি বিচে।’
বলেই আবার হাঃ হাঃ করে হেসে উঠল মিঃ ডেভিড ওরফে ডেভিড গোল্ড ওয়াটার। বলল আবার, ‘আসি আহমদ মুসা। দেখা হবে আবার নতুন রণাঙ্গনে। যত রক্ত তুমি বইয়েছ, প্রতি ফোটার প্রতিশোধ নিব আমি।’ কণ্ঠ থেমে গেল আবার এক অট্টহাসির মাধ্যমে।
উড়ে চলল হেলিকপ্টার। অদৃশ্য হল কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই।
পুলিশ প্রধান চিনকের চোখ দু’টি বিস্ময়ে বিস্ফরিত। তাঁর দুচোখ নিবদ্ধ আহমদ মুসার প্রতি। যেন গিলছে তাকে। বলল সে, ‘জনাব, উনি যা বলছেন তা সত্যি? আপনি আহমদ মুসা?’
সংগে সংগেই চিনক আহমদ মুসার পায়ের উপর ঝুকে পড়ে দুই হাত দিয়ে আহমদ মুসার পদধূলি নিল আহমদ মুসা কিছু বুঝে উঠার আগেই।
তারপর উঠে দাড়িয়ে চিনক কয়েক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে পা মাটিতে ঠুকে হাত কপালে তুলে আহমদ মুসাকে সামরিক স্যালুট করল। বলল, ‘আপনাকে অভিনন্দন, স্বাগত আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে। আপনি আমাদেরও নেতা।’
আহমদ মুসা কিছু বলল না। এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরল চিনককে। বলল, ‘আমি কারোই নেতা নই। আমি আল্লাহ্‌র একজন বান্দা। আল্লাহ্‌র মজলুম বান্দাদের আমি সেবক।’
প্রফেসর আরাপাহো পাশেই দাঁড়িয়েছে। বলল আহমদ মুসাকে, ‘পুলিশ প্রধান চিনকের আরেকটা পরিচয় আছে। সে আমেরিকান ইন্ডিয়ান মুভমেন্টের(AIM) গোপন নেতাদের একজন। সে মুভমেন্টের নির্বাহী সেক্রেটারি জেনারেল।’
আহমদ মুসা অভিনন্দন জানাল তাকে আরেকবার বুকে জড়িয়ে ধরে।
‘জনাব, ওঁরা যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেল যাদের কেন্দ্র করে, সেই ডাঃ মার্গারেট ও লায়লা জেনিফার কে?’ বলল চিনক।
‘সবই জানতে পারবেন। বলব সব’। আহমদ মুসা বলল।
সবাই চলা শুরু করল রেস্ট হাউজের দিকে।
আহমদ মুসার দু’পাশে হাঁটছিল সান ওয়াকার, জিভারো,ওগলালা, মেরী রোজ এবং শিলা সুসান।
‘সুসান, তুমি বড় বিপদে পড়লে দেখছি।’ আহমদ মুসা বলল।
‘কেমন করে?’
‘বাপ মেয়ের মধ্যে লড়াই বাধবে দেখছি।’
‘ভাইয়া এ বিপদ কি ডাঃ মার্গারেট ও লায়লা জেনিফারের চেয়ে বড়?’
‘তা নয়।’
‘আমার পা কাপছে ভাইয়া একথা শোনার পর থেকে।’
আহমদ মুসা কোন কথা বলল না।
ওগলালা বলল, ‘কি ভাবছেন ভাইয়া?’ শুকনো কণ্ঠস্বর ওগলালার।
‘ভাবছি নতুন লড়াই এর কথা। ভাবছি বোনদের-ভাইদের ছেড়ে যেতে হবে, সেই কথা।’
সবাই নীরব। কোন কথা বলল না কেউ। অনেকক্ষণ পর ওগলালাই বলল, ‘লড়াইয়ের ময়দান কারও একার নয় ভাইয়া।’
হাসল আহমদ মুসা। কোন কথা বলল না। তাঁর দৃষ্টি তখন সামনে। সম্ভবত পথ সন্ধান করছে সামনের অন্ধকারে।

সাইমুম সিরিজের পরবর্তী বই
আমেরিকার এক অন্ধকারে