২৯. আমেরিকায় আরেক যুদ্ধ

চ্যাপ্টার

‘ব্যাপারটা কিছু বুঝতে পারছেন মিঃ গোল্ড ওয়াটার? জর্জ আব্রাহাম, এ্যাডমিরাল ম্যাক আর্থার ও জেনারেল শেরউড অস্বাভাবিক ধরনের তাড়াহুড়া করে নিউ মেক্সিকো গেলেন কেন?’ উদ্বিগ্ন কন্ঠ জেনারেল শ্যারনের।
‘কিছু বুঝছি না। কালকের সন্ধ্যার ঘটনার সাথে এর কি কোন সম্পর্ক আছে?’ চিন্তান্বিত কন্ঠে বলল গোল্ডওয়াটার।
‘গতকালকের ঘটনা তো পরিষ্কার। এফ.বি.আই হেড কোয়াটারের ডিউটি অফিসার ম্যাগগিল শেখ আবদুল্লাহ আলী ও আহমদ মুসার সাথে জর্জ আব্রাহামের এ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যাপার আমাদের কাছে ফাঁস করে দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে। এ নিয়ে জর্জ আব্রাহামের সাথে কথা বলেছি। তাকে বলেছি এ ধরনের ফাঁস করে দেয়ার ঘটনা অফিস শৃঙ্খলার বিরোধী, কিন্তু নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, কিন্তু এভাবে গুরুতর অপরাধ হিসাবে কোন সময়ই দেখা হয়নি। তিনি একথার কোন স্পষ্ট জবাব দেননি। আমিও তাকে আর কিছু বলিনি। বললে আরও পরে বলব, একজন আমলাকে তেল মাখানোর কোন প্রয়োজন নেই।’
‘আহমদ মুসা কি ওদের কান ভারি করেছে?’ বলল গোল্ড ওয়াটার।
‘কি আর ভারি করবে। তার কি বলার আছে। মার্কিন সরকার, মার্কিন প্রশাসন কি ইহুদীদের কাজ সম্পর্কে তার চেয়ে বেশী জানে না।’
‘কিন্তু আমি বিস্মিত হচ্ছি আহমদ মুসার বুদ্ধি দেখে। জর্জ আব্রাহামের সাথে এ গোপন এ্যাপয়েন্টমেন্ট করার পরও বাড়তি সতকর্তা হিসাবে শেখ আবদুল্লাহ আলীর নামে আরেকটা এ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়ার চিন্তা করেছিল কেন?’
‘এটা আহমদ মুসার একটা বৈশিষ্ট্য। পরিস্থিতির পেটে যতকথা থাকে সবই সে বুঝতে পারে। বাতাস থেকেই সে বিপদের গন্ধ পায়।’
‘আহমদ মুসার জন্য ওৎ পেতে থাকা আপনাদের দু’জন লোক গায়েব হলো কোথায়?’
‘সেটাও একটা বিস্ময়। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এফ.বি.আই গ্রেফতার করেনি। শেখ আবদুল্লাহ আলী রূপি আহমদ মুসাও ঠিক সময়ে সাক্ষাতের জন্যে এফ.বি.আই অফিসে পৌছেছে। সুতরাং সেও গায়েব করার কাজে জড়িত বুঝা যায় না।’
‘কেন আহমদ মুসার সাথে কেউ থাকতে পারে, তারা তাদের ধরে নিয়ে যেতে পারে।’
‘হ্যাঁ তা পারে। সেটা খোঁজ নেবার জন্যে বলেছি। আহমদ মুসার সাথে ওয়াশিংটনে আসা বেঞ্জামিন বেকনেরও খোঁজ নিচ্ছি আমরা।’
টেলিফোন বেজে উঠল। টেলিফোন ধরল জেনারেল শ্যারন।
টেলিফোনে কথা শুনতে শুনতে গোল্ড ওয়াটারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কিছু বুঝতে পারছি না গোল্ড ওয়াটার। আহমদ মুসাও নাকি গেছে জর্জ আব্রাহামদের সাথে।’
‘আহমদ মুসা গেছে ?কেন?’ বলল গোল্ড ওয়াটার।
‘সেটাই তো কথা। তবে আমার মনে হচ্ছে, লস আলামোসের ঘটনার ব্যাপারটাই তাকে নিয়ে গেছে।’ বলল জেনারেল শ্যারন।
‘তাহলে কি বলা যায় যে, আহমদ মুসা এখন সরকারের হাতে বন্দী?’
‘এটাই স্বাভাবিক মিঃ গোল্ড ওয়াটার।’
‘তাহলে তো বলতে হয়, আহমদ মুসা গায়ে পড়ে এসে ধরা দিয়েছে। কিন্তু আহমদ মুসার জন্য এটা কি স্বাভাবিক?’
‘স্বাভাবিক নয়। কিন্তু এটাই তো ঘটেছে।’
বলল জেনারেল শ্যারন। তার কপাল কুঞ্চিত। ভাবছে সে।
কথা শেষ করেই জেনারেল শ্যারন আবার বলে উঠল, ‘অংক মিলছে না মিঃ গোল্ড ওয়াটার। আহমদ মুসা একটা গোলক ধাঁধা সৃষ্টি করেছে। মতলব কি তার?’ স্বগতোক্তির মত করেই কথা শেষ শ্যারনের।
আবারও টেলিফোন বেজে উঠল জেনারেল শ্যারনের। টেলিফোন তুলে নিল শ্যারন।
ওপারের কথা শুনেই শ্যারন বলে উঠল, ‘গুড মর্নিং, কি খবর বেন?’
ওপারের কথা শুনল জেনারেল শ্যারন। মুহূর্তেই মুখ চুপসে গেল তার। উদ্বেগ আতংকের এক অন্ধকার নেমে এল তার চোখেমুখে। বলে উঠল, ‘কিছুই তোমরা টের পাওনি? কম্পিউটার মেমরী মুছে দিতে ক’সেকেন্ড লাগে? ওরা অন্ধকূপে নেমেছে কেন?’
ওপারে দীর্ঘ কথা শুনল জেনারেল শ্যারন। শুনতে শুনতে তার মুখ মরার মত পাংশু হয়ে উঠল। টেলিফোন ধরা তার হাত কাঁপছে।
টেলিফোনে কথা শেষ হওয়ার পরও কয়েক মুহূর্ত পাথরের মত নিশ্চল হয়ে বসে থাকল জেনারেল শ্যারন।
উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে হোয়াইট ঈগল প্রধান গোল্ড ওয়াটার। বলল, ‘কি ব্যাপার জেনারেল? খারাপ কিছু ঘটেছে?’
গোল্ড ওয়াটারের কথায় প্রায় চমকে উঠার মত তাকাল জেনারেল শ্যারন।
বিমূঢ় তার চেহারা। গোল্ড ওয়াটারের প্রশ্ন সে শুনতে পেয়েছে। কি জবাব দেবে সে? প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে না গোল্ড ওয়াটারকে। বর্ণবাদী আন্দোলন করলেও সে নিরেট আমেরিকান। এই ঘটনায় তার মত আমেরিকানরা শ্যারনদের বিরুদ্ধে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
একটু ভেবে জেনারেল বলল, ‘আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার মিঃ গোল্ড ওয়াটার।’ শুষ্ক কন্ঠ শ্যারনের।
‘কি রকম?’
‘জর্জ আব্রাহামরা আহমদ মুসাকে নিয়ে আমাদের সবুজ পাহাড় সিনাগগে অভিযান চালিয়েছে ও দখল করে নিয়েছে।’
‘কেন, সবুজ পাহাড় কেন? ওখানে কি আছে?’ বিস্মিত কন্ঠ গোল্ড ওয়াটারের।
‘অভিযানের প্রধান টার্গেট সিনাগগের কাগজপত্র ও কম্পিউটার। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, আহমদ মুসার খপ্পরে পড়ে ওরা কোন ষড়যন্ত্র সাজাচ্ছে আমাদের মানে ইহুদীদের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দাবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত আহমদ মুসা মনে হচ্ছে তার দোষ আমাদের ঘাড়ে চাপাবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।’
‘একটা অসম্ভব কথা শুনালেন জেনারেল শ্যারন।’
‘অর্থনীতিতে সবই সম্ভব মিঃ গোল্ড ওয়াটার। মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলার অনেক মার্কিন আমলারই মাথা কিনে নিচ্ছে। আহমদ মুসা জর্জ আব্রাহামের সাথে দেখা করার কারণ নিশ্চয় বড় কিছু। নিশ্চয় বড় কোন লেন-দেনের ব্যাপার ঘটেছে।’
‘কিন্তু জর্জ আব্রাহামের সাথে সি.আই.এ চীফ এ্যাডমিরাল ম্যাক আর্থার ও পেন্টাগনের প্রধান জেনারেল শেরউড তো আছেন?’
‘তাদের হাত করা কি সিনিয়র আমলা জর্জ আব্রাহামের জন্যে কঠিন?’ বলে একটু দম নিল। বলল আবার, ‘শুনলাম ওরা অন্ধকূপেও নেমেছে।’
‘অন্ধকূপে? কেন?’
‘আমাদের লোক কিছু বলতে পারল না। আমাদের এ লোকটি কোনভাবে সরে পড়তে পেরেছে বলে টেলিফোনে খবরটা জানাতে পারল। অন্যদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।’
‘সাংঘাতিক কথা শুনালেন জেনারেল। কিছু একটা তো করতে হয়।’ উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল গোল্ড ওয়াটার।
‘মিঃ গোল্ড ওয়াটার আপনাদেরও আমি সাহায্য চাই। বিকালে আমি আপনার সাথে দেখা করব। এখনি আমাকে বেরুতে হবে।’ বলল কম্পিত কন্ঠে জেনারেল শ্যারন।
উঠে দাঁড়াল গোল্ড ওয়াটার যাবার জন্যে। বলল, ‘দুঃখিত জেনারেল এই অঘটনের জন্যে। আমাদের পূর্ণ সাহায্য আপনি পাবেন।’
গোল্ড ওয়াটার বেরিয়ে গেল ড্রইং রুম থেকে।
গোল্ড ওয়াটার বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সংগেই জেনারেল শ্যারন তার মোবাইল টেলিফোন হাতে নিল। প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আলেকজান্ডার হ্যামিলনের কাছে টেলিফোন করল সে।
তার চোখ মুখ থেকে উত্তেজনা ঠিকরে পড়ছে। তার দু’চোখে ক্রুর প্রতিহিংসার আগুন।
জেনারেল শ্যারন টেলিফোনে গোটা বিষয় ব্রিফ করল জেনারেল আলেকজান্ডার হ্যামিলটনকে। সব কথা শুনে আলেকজান্ডার হ্যামিলটন বলল, ‘আমি আপনাকে আর সময় দিতে পারছি না। আমি প্রেসিডেন্টের কাছে যাচ্ছি, ডেকেছেন তিনি। আপনি নিশ্চিত থাকুন। যা করার আমি করব। যা বলার আমি বলে দেব জর্জ আব্রাহাম ও এ্যাডমিরাল ম্যাক আর্থারকে।’
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলেকজান্ডারের সাথে কথা শেষ করে জেনারেল শ্যারন আরেকটা নাম্বার ডায়াল করতে যাচ্ছিল কিন্তু তার তর্জনি মোবাইলের ডায়াল বাটন স্পর্শ করার আগেই টেলিফোন বেজে উঠল।
টেলিফোন ধরে ওপারের কথা শুনেই দ্রুত বলে উঠল, ‘বেনইয়ামিন তুমি? কি খবর?’ জেনারেল শ্যারনের কন্ঠে উদ্বেগ।
‘খবর খুব খারাপ স্যার। সবুজ পাহাড়ের অন্ধকূপ থেকে লস আলামোসের কম্পিউটার কক্ষ পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছে ওরা। ওরা একে গোয়েন্দাগিরীর পথ বলে অভিহিত করছে।’
কথাগুলো জেনারেল শ্যারনের কানে পৌছার সঙ্গে সঙ্গেই মরার মত ফ্যাকাসে হয়ে গেল তার মুখ। কেঁপে উঠল তার শরীর। হাত থেকে খসে পড়ল টেলিফোন। শিথিল হাতেই আবার টেলিফোন তুলে নিল সে।
মুহূর্তের জন্যে চোখ বুজে নিজেকে সংবরণ করল জেনারেল শ্যারন।
শক্ত হাতে চেপে ধরল সে টেলিফোন। ঠোঁট দু’টি তার শক্ত হয়ে উঠল। তীব্র হয়ে উঠল তার চোখের দৃষ্টি। বলল সে টেলিফোনে, ‘বেনইয়ামিন তুমি লস আলামোসের আউটার গেটের সামনে গিয়ে লুকিয়ে অপেক্ষা কর। ডি.এস.কিউ (ডেথ স্কোয়াড) সেখানে মানে লস আলামোসে যাচ্ছে। তাদের কি করণীয় আমি তাদের বলে দেব। তোমার করণীয় হলো যা ঘটে তার খবর পাঠানো।’
বলে টেলিফোন রেখে দিল জেনারেল শ্যারন। তার চোখ দু’টো বাঘের মত জ্বলছে। মনে তার ঝড়। সে ঝড়ের একটাই মূল কথা, ‘এখন জর্জ আব্রাহাম, এ্যাডমিরাল ম্যাক আর্থার ও জেনারেল শেরউড এবং তাদের সাথে আহমদ মুসার বেঁচে থাকার অর্থ আমেরিকায় ইহুদীদের বেঁচে না থাকা।’
ড্রইং রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে ‘বেনইয়ামিন ও লস আলামোস’ শব্দ জেনারেল শ্যারনের কন্ঠে উচ্চারিত হতে শুনে হোঁচট খাওয়ার মত থমকে দাঁড়াল সারা বেনগুরিয়ান। এক বেনইয়ামিনের নাম সে জানে। যাকে ইহুদীদের পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তির দায়ে কিছুদিন আগে চীন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চীন থেকে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে। আর লস আলামোসে একটা বড় ঘটনা ঘটেছে সেটাও সে জানে। ইহুদী গোয়েন্দা প্রধানের মুখে এই দুই নাম শোনাই তার হোঁচট খেয়ে থমকে দাঁড়াবার কারন তার এটাই। তার মনে হয়েছে এই কথা বলা অবস্থায় ড্রইং রুমে প্রবেশ করা জেনারেল শ্যারনের জন্যে হয়ত বিব্রতকর হতে পারে। তাছাড়া সাবা বেনগুরিয়ানের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি হলো জেনারেল শ্যারনের কথা সম্পুর্ণটা শোনার জন্যে।
সাবা বেনগুরিয়ান ইসরাইলের প্রথম প্রধান মন্ত্রী ডেভিড বেনগুরিয়ান পরিবারের সন্তান। সে ওয়াশিংটনের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতি’ বিষয়ের ছাত্রী। তার পিতা আইজাক বেনগুরিয়ান একটা ব্যাংকের মালিক। তারা সকলেই খুবই সম্মানিত। তারা মার্কিন নাগরিক হলেও নিজ জাতি ইহুদীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব ভোলেনি। তারা ‘আমেরিকান জুইস পিপলস কমিটি’র সদস্য। এই কমিটি শুধু আন্তর্জাতিক ইহুদীবাদকে সাহায্য করা নয়, মার্কিন পলিসীকে ইহুদীমুখী রাখার জন্যেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। মার্কিন নির্বাচনের সময় এই কমিটিই চাঁদা উঠায় এবং সুপরিকল্পিতভাবে পছন্দনীয় নির্বাচন প্রার্থীদের সহায়তা করে। জেনারেল শ্যারন সাবা বেনগুরিয়ানের আব্বা আইজ্যাক বেনগুরিয়ানের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শ্যারন ওয়াশিংটন এলে সাবাদের বাড়িতি ওঠে।
সাবা বেনগুরিয়ান জেনারেল শ্যারন টেলিফোনের বেনইয়ামিনকে যে নির্দেশ দিল তার সবটাই শুনল। শুনতে গিয়ে সে চমকে উঠল ‘জি.এস.কিউ’-কে লস আলামোসে পাঠানোর কথা শুনে। এই ‘জি.এস.কিউ’র অর্থ ইহুদী ডেথ স্কোয়াড তা বুঝতে তার দেরী হলো না। এই ডেথ স্কোয়াড লস আলামোসে কেন? আর গোয়েন্দা বেনইয়ামিন লুকিয়ে কি দেখবে, কোন খবর পাঠাবে? আহমদ মুসা লস আলামোসে ঢুকেছিল। কিন্তু তার এখন ফেরার কোন সমস্যা নেই লস আলামোসে।
ডেথ স্কোয়াড যাচ্ছে সেখানে, যাচ্ছে কার বিরুদ্ধে? ইহুদী ডেথ স্কোয়াডকে মার্কিন প্রশাসন কি হায়ার করছে? তাই যদি হবে, তাহলে বেনইয়ামিন লুকিয়ে থেকে কি রিপোর্ট করবে জেনারেল শ্যারনকে?’
কোন প্রশ্নের উত্তরই সাবা বেনগুরিয়ান বের করতে পারলো না।
ওদিকে জেনারেল শ্যারন টেলিফোনে কথা শেষ করেছে। নিরব ড্রইং রুম।
সাবা বেনগুরিয়ান প্রবেশ করল ড্রইং রুমে।
ড্রইং রুমে প্রবেশ করে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল, ‘আঙ্কেল, আব্বা টেলিফোন করেছিলেন আপনাকে আমাদের সাথে আজ লাঞ্চ খেতে হবে। প্রায়ই বাইরে খান, আজ নয়।’
জেনারেল শ্যারন হাসতে চেষ্টা করে বলল, ‘কেন আজ কি কোন অকেশন আছে নাকি?’
শ্যারন হাসার চেষ্টা করলেও হাসিটা হলো তার কান্নার মত।
‘কোন অকেশন নেই, জর্জ জন আব্রাহাম জুনিয়রও আজ এখানে লাঞ্চ করবে।’ বলল সাবা বেনগুরিয়ান।
‘জর্জ আব্রাহামের ছেলে?’
‘হ্যাঁ।’
‘সে কম্পিউটার বিজ্ঞানী না?’
‘এই তো কয়দিন আগে সে সফটঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুল। কয়েকটা আবিষ্কারের জন্যে তাকে বিজ্ঞানী বলা হচ্ছে বটে।’
‘পেন্টাগনের টপসিক্রেট কম্পিউটার উইং এর কনসালট্যান্টও তো সে?’
‘বিস্তারিত জানি না। শুনেছি পেন্টাগনে কিছু সময় সে দেয়।’
‘হ্যাঁ সাবা সে পেন্টাগনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। খুব ভাল ছেলে।’
‘হ্যাঁ আঙ্কেল খুব ভাল ছেলে। প্রেসিডেন্ট তাকে দু’বার ডেকেছেন।’
‘তোমার বন্ধু না?’
‘জি, আঙ্কেল।’ সাবা বেনগুরিয়ানের মুখ লাল হয়ে উঠল।
‘তোমরা বিয়েও করছ, তাই না?’
‘জানি না আঙ্কেল, ও খুব কনজারভেটিভ আমেরিকান।’ বলতে গিয়ে সাবার মাথা লজ্জায় নুয়ে পড়ল।
‘তাতে কি? জান না, জর্জ আব্রাহামের মা ইহুদী কন্যা ছিলেন?’
‘তাই? আমি জানতাম না।’
‘তুমি কি জর্জদের বাড়িতে গেছ?’
‘হ্যাঁ গেছি।’
‘আজ যাও না ওদের বাড়িতে, এটা অনুরোধ।’
‘কেন এ অনুরোধ?’ চোখে মুখে বিস্ময় সাবা বেনগুরিয়ানের।
‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদী স্বার্থ আজ মহাসংকটে পড়েছে। তোমার সাহায্য দরকার।’
‘জর্জের বাড়িতে যাওয়ার সাথে এ সাহায্যের সম্পর্ক কি?’
‘জর্জের বাড়িতে গিয়ে জর্জ জনের আব্বা জর্জ আব্রাহামের নিজস্ব স্টাডিতে তাঁর পারসোনাল কম্পিউটার তোমাকে ব্যবহার করতে হবে।’
‘কেন? সেখানে কি করব?’
‘তুমি জান না, জর্জ আব্রাহাম জনসন এফ.বি.আই-এর চীফ। তার বিশেষ অভ্যাস হলো, প্রতিদিন তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও ডাটা পান, যেখানেই থাকুন সঙ্গে সঙ্গেই তা মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসের মাস্টার কম্পিউটারে পাঠান। বাড়তি সর্তকতা হিসেবে সঙ্গে সঙ্গেই তা আবার তিনি তার পারসোনাল কম্পিউটারে পাঠান। তোমাকে গত দু’দিন ও সর্বশেষ সময় পর্যন্ত আসা লস আলামোস ও সবুজ পাহাড় সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট মুছে ফেলতে হবে।’
লস আলামোসের নাম শুনে চমকে উঠল সাবা বেনগুরিয়ান। কিছুক্ষন আগে জেনারেল শ্যারনের মুখেই সে লস আলামোসে ডেথ স্কোয়াড পাঠানোর কথা শুনেছে। তার সাথে কম্পিউটার থেকে ডকুমেন্ট মুছার কি সম্পর্ক আছে? ভেতরে ভেতরে শংকিত হয়ে উঠল সাবা বেনগুরিয়ান। তাকে দিয়ে গোয়েন্দাগিরী করাতে চান জেনারেল শ্যারন? অস্বস্তিতে ভরে উঠল সাবা বেনগুরিয়ানের মন। বলল সে, ‘জর্জ জন জুনিয়রের অজ্ঞাতে এই কাজ করা যাবে না এবং আমি তা পারবও না। কিন্তু কেন করতে হবে ? কি ঘটেছে এমন?’
‘সব কথা তোমাকে বলতে পারবো না মা। তবে এটুকু জেনে রাখ অবিলম্বে যদি আমরা জর্জ আব্রাহামদের গতিরোধ করতে না পারি, তারা যদি লক্ষ্যে পৌঁছে যায়, তাহলে জার্মানীতে আমাদের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটতে পারে।’
শিউরে উঠল সাবা বেনগুরিয়ান। জার্মানীর ভয়াবহ দৃশ্যগুলো ফুটে উঠল তার চোখে। আমেরিকায় তার পুনরাবৃত্তি তারা কল্পনাও করতে পারে না। ভীত হয়ে পড়ল সাবা বেনগুরিয়ান। কথা বলার শক্তিও যেন সে হারিয়ে ফেলল। কথা বলল আবার জেনারেল শ্যারনই, ‘কাজটা তুমি কিভাবে করবে জানি না। কিন্তু এখন আমার বিশ্বাস এটা একমাত্র তুমিই করতে পারবে।’
কথা বলতে পারল না সাবা বেনগুরিয়ান। কিন্তু তার মনে হলো বেনগুরিয়ান কন্যার উপর একটা দায়িত্ব এসে চেপে বসেছে, যা প্রত্যাখ্যানের কোন শক্তি তার নেই। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবল, জর্জ জন জুনিয়রের সাথে কোন বিশ্বাসঘাতকতা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
জেনারেল শ্যারন উঠে দাঁড়াল। নির্বাক সাবা বেনগুরিয়ানকে বলল, ‘আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। লাঞ্চের সময় ঠিক এসে যাব।’
বলে বেরিয়ে গেল জেনারেল শ্যারন।
সাবা বেনগুরিয়ান ধপ করে বসে পড়ল সোফায়। দেহের ওজন যেন তার হঠাৎ করেই অনেক কমে গেছে।
গাড়ি থেকে নেমে সাবা বেনগুরিয়ানের হাত ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ির ভেতরে নিজের ব্যক্তিগত ড্রইংরুমে প্রবেশ করে সোফায় বসে সাবাকে টেনে নিতে নিতে বলল জর্জ জুনিয়র, ‘আজ কি যে সৌভাগ্য আমার। বেনগুরিয়ান রাজকন্যাকে সেধেও বাড়িতে আনা যায় না, সে কিনা আজ স্বেচ্ছায় ধরা দিল।’
‘সেধে ধরা দিলেই বুঝি দাম কমে যায়?’
বাহুর বাধনটা আরও দৃঢ় করে জর্জ জন জুনিয়র বলল, ‘না দাম আরও বাড়ে।’
‘আব্বা আম্মা কাউকে যে দেখছি না?’
‘আব্বা গেছেন লস আলামোসে সরকারী কাজে। আর আম্মা গেছেন আজ সকালে ভাইয়ার বাড়িতে। আমিই আজ বাড়ির রাজা।’
সাবা বেনগুরিয়ান তার চুলে ঢাকা মুখটা জর্জ জন জুনিয়রের বুকে রেখে বলল, ‘রাজা মশায়, আমি কেন এসেছি জান? তোমার কৃতিত্বকে সেলিব্রেট করার জন্যে।’
‘কোন কৃতিত্ব?’
‘তুমি দুনিয়ার সব কম্পিউটারে গোপন কুঠুরিতে ঢোকার পথ আবিষ্কার করেছ।’
‘হ্যাঁ সাবা, এই আবিষ্কার আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার অনেক পরিশ্রম কমিয়ে দেবে। কম্পিউটারের সিক্রেট কেবিনও আমাদের গোয়েন্দা বিভাগগুলোর মাথা ব্যথার কারণ ঘটাবে না।’
‘সব কম্পিউটারই আনলক করতে পারে? এফ.বি.আই, সি.আই.এ’র গুলোও?’
‘অবশ্যই। জান, এফ.বি.আই, সি.আই.এ’র কম্পিউটারগুলোর মধ্যে আব্বার পারসোনাল কম্পিউটারের সিক্রেট কেবিন সবচেয়ে প্রটেকটেড। আমি ওটাও খুলতে পারি চোখের পলকে।’
সাবা বেনগুরিয়ান জর্জ জন জুনিয়রের বুক থেকে মুখ তুলে বলল, ‘সত্যি পার?’
‘বিশ্বাস হচ্ছে না, চল দেখাচ্ছি।’
সাবা বেনগুরিয়ানকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল জর্জ জন জুনিয়র।
কম্পিউটার টেবিলে সাবা বেনগুরিয়ানকে নিজের পাশে বসিয়ে জর্জ জন জুনিয়র বলল, ‘নাও তুমিই হাত লাগাও সাবা। আমি বলে দিচ্ছি কি করতে হবে।’
অন্তরটা কেঁপে উঠল সাবার। সে প্রতারণা করছে জর্জ জন জুনিয়রকে। বিশ্বাসঘাতকতা করছে তার সাথে। জর্জ জুনিয়র সরল বিশ্বাসে তার হাতে তুলে দিচ্ছে জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ একটি কম্পিউটারের গোপনীয়তা। আর সাবা গোয়েন্দাগিরীর কূটিল মনোভাব নিয়ে তা গ্রহণ করছে।
বিব্রত বোধ করল সাবা বেনগুরিয়ান। কিন্তু পরক্ষণেই জেনারেল শ্যারনের চেহারা ভেসে উঠল তার সামনে। ইহুদী গোয়েন্দা চীফের এক অলংঘনীয় হুকুম আবার তার উপর যেন চেপে বসল। তার সেই কথাও মনে পড়ল, জার্মানিতে যা হয়েছিল তার চেয়েও খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকায়। আবারও শিউরে উঠলো সাবা বেনগুরিয়ান। তার মনে হলো, সেই বিপর্যয় থেকে ইহুদীদের রক্ষার একটা মিশন জেনারেল শ্যারন তুলে দিয়েছে তার হাতে। সে দায়িত্ব সে কি পালন করবে না? করতেই যে হবে তাকে।
কম্পিউটারের কী বোর্ডে হাত রাখল সাবা বেনগুরিয়ান। কম্পিউটার বিজ্ঞানে সাবা বেনগুরিয়ানও দক্ষ কম নয়।
‘সাবা, সব রোগের পাশে যেমন ঔষধ থাকে, তেমনি যে কোন কম্পিউটার সমস্যার সমাধানও তার পাশে মানে কী বোর্ডেই থাকে। রোগের যেমন ঔষধ আবিষ্কার করতে হয়, তেমনি কম্পিউটার সমস্যার সমাধানও কম্পিউটার কী বোর্ড থেকেই আসে।’ বলে জর্জ জুনিয়র জগতের সবচেয়ে দুরুহ কম্পিউটারের লক আনলক করার জটিল কোড ব্রিফ করল সাবা বেনগুরিয়ানকে।
সে কম্পিউটার কোডটি সাবা বেনগুরিয়ান কম্পিউটার কী বোর্ডে কাজে লাগাল। কোডটি সম্পর্ণ হবার সঙ্গে সঙ্গেই কম্পিউটার স্ক্রীনে ‘পাসওয়ার্ড ও,কে’ সিগন্যাল ভেসে উঠল। তার পরেই পরবর্তী কমান্ড চাইল কম্পিউটার।
বুক কেঁপে উঠল সাবা বেনগুরিয়ানের। এবার ওপেন কী চাপলেই কম্পিউটারের গোপনগ্রন্থের পাতা তার সামনে খুলে যাবে। তারপর কী চেপে একের পর এক পাতা উল্টালেই শেষের পাতাগুলো সে পেয়ে যাবে।
কম্পিত তর্জনির শীর্ষ দিয়ে ওপেন কীতে চাপ দিল সাবা বেনগুরিয়ান।
কম্পিউটারের গোপনগ্রন্থের প্রথম পাতা ওপেন হলো সাবা বেনগুরিয়ানের সামনে।
হৃদয়ের কাঁপুনি বেড়ে গেল সাবা বেনগুরিয়ানের। সে অনেক কষ্টে হাসার চেষ্টা করে ধন্যবাদ দিল জর্জ জুনিয়রকে। বলল, ‘সবচেয়ে গোপন দরজা খোলার মন্ত্র তুমি সত্যই আবিষ্কার করেছ জর্জ জুনিয়র।’
একদিকে এই কথাগুলো বলছিল, অন্যদিকে তার ব্যস্ত তর্জনি বোতাম টিপে একের পর এক পাতা উল্টে যাচ্ছিল। সাবা বেনগুরিয়ান কোন পাতায় কি আছে তা দেখার জন্যে বিন্দুমাত্র ওয়েট করছিল না। তার লক্ষ্য সর্বশেষ এন্ট্রিগুলো।
জর্জ জুনিয়র সাবা বেনগুরিয়ানের পাশে বসে সাবার আঙ্গুলের খেলা দেখে যাচ্ছিল। সে মনে করছিল মজা বশতই সাবা কম্পিউটারের একের পর এক পাতা উল্টে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এন্ট্রির সামনে আসতেই থমকে দাঁড়াল সাবা বেনগুরিয়ানের চোখ। সেই সাথে গোটাদেহে বয়ে গেলো প্রবল অস্বস্তির একটা শীতল স্রোত।
সাবা বেনগুরিয়ানের দু’টি চোখ নিবদ্ধ কম্পিউটারের সেই লেটেস্ট এন্ট্রি চার্টের উপর। আর তার তর্জনিটা ছুটে গেল ফাংশন কীর দিকে। পরপর তিনটি নির্দিষ্ট বাটন চাপলেই মুছে যাবে লেটেস্ট এন্ট্রিগুলো।
কিন্তু সাবা বেনগুরিয়ানের চোখ দু’টি লেটেস্ট এন্ট্রিগুলো পড়তে গিয়ে আঠার মত লেগে গেল। চোখ ফেরাতে পারল না সে। তার তর্জনি নেমে গেছে, ফাংশন বাটনে চাপ দিতে ভুলে গেল যেন।
পড়ছে সে এন্ট্রিগুলো। ইহুদী সিনাগগ কমপ্লেক্স সবুজ পাহাড়ে আহমদ মুসার বন্দী হওয়া এবং তার মুক্ত হওয়ার গোটা কাহিনী পড়ল সাবা বেনগুরিয়ান। তারপর আহমদ মুসার সাথে জর্জ আব্রাহামের সাক্ষাতের বিবরণও পড়ে ফেলল সে।
সাবা বেনগুরিয়ার অনুভব করল তার দেহ মনের উপর দিয়ে বুদ্ধি বিবেচনা ভোতাকারী এক শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে।
পড়ে চলল সে। জর্জ আব্রাহাম, এ্যাডমিরাল ম্যাক আর্থার ও জেনারেল শেরউডের তিন সদস্য বিশিষ্ট টিম তদন্তের গেছে আহমদ মুসার দেয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জন্যে। টিম সরেজমিনে দেখবে, ইহুদী বিজ্ঞানী জন জ্যাকব সবুজ পাহাড় থেকে লস আলামোস পর্যন্ত তৈরী করা গোয়েন্দা সড়ঙ্গের কথা সত্য কিনা, সত্য হলে এ গোয়েন্দা সুড়ঙ্গ পথে কতদিন ধরে গোয়েন্দাবৃত্তি চলছে, আহমদ মুসা লস আলামোসে সাম্প্রতিক ইহুদী গোয়েন্দাবৃত্তির যে তথ্য দিয়েছে সে রকম গোয়েন্দাবৃত্তি ইহুদীরা কিভাবে, কার মাধ্যমে করছে। আহমদ মুসা কর্তৃক উদ্ধার করা সাম্প্রতিক গোয়েন্দাবৃত্তি সংক্রান্ত দলিল গোটাটাই কম্পিউটারে সে দেখল। কম্পিউটারের লেটেস্ট এন্ট্রির এখানেই শেষ।
পড়ার পর সাবা বেনগুরিয়ানের গোটা দেহ যেন কাঁপছে। মনে পড়ল জেনারেল শ্যারনের সেই কথা যে, যদি জর্জ আব্রাহামদের রোখা না যায় তাহলে জার্মানীতে ইহুদীদের যে অবস্থা হয়েছিল, সেই অবস্থা হবে আমেরিকার ইহুদীদের। হৃদয়টা থরথর করে কেঁপে উঠল সাবা বেনগুরিয়ানের। এই গোয়েন্দাগিরীর কথা যদি প্রচার হয়, যদি প্রমাণ হয় বিজ্ঞানী জন জ্যাকবের মত সর্বজন শ্রদ্ধেয় লোকও যদি ইহুদীদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরী, লস আলামোস পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরী ও গোয়েন্দাবৃত্তি করে থাকে, তাহলে কোন ইহুদীই বিশ্বাসযোগ্য নয়, এটাই স্বতঃসিদ্ধ হয়ে উঠবে। আর তখন জার্মানীতে যা হয়েছিল সেই অবস্থা এখানেও সৃষ্টি হতে পারে।
কম্পিত হৃদয়ে আরও ভাবল সাবা বেনগুরিয়ান, কিন্তু এ এন্ট্রিগুলো মুছে ফেললেই কি সব প্রমাণ মুছে যাবে? হঠাৎ তার মনে পড়ল লস আলামোসে জেনারেল শ্যারন ‘ডেথ স্কোয়াড’ পাঠানোর কথা। তার মানে তদন্ত টিমের সদস্যসহ আহমদ মুসাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে জীবন্ত প্রমাণ নষ্ট করার পরিকল্পনা করেছে জেনারেল শ্যারনরা?
গাটা কেঁপে উঠল আরেকদফা সাবা বেনগুরিয়ানের। সে বুঝতে পারল পরিকল্পনা। জীবন্ত প্রমাণ সরিয়ে দিতে ও কম্পিউটারের রেকর্ডগুলো মুছে ফেলতে পারলেই কেটে যেতে পারে সংকট।
কিন্তু এই পরিকল্পনা সাবা বেনগুরিয়ানকে আশ্বস্ত করার বদলে আরও আতংকিত করে তুলল। সে ইহুদী বটে, কিন্তু তাই বলে জর্জ জুনিয়রের এতবড় ক্ষতি চোখের সামনে দেখতে পারবে না, জর্জ জুনিয়রের পিতাকে যারা হত্যা করতে চায়, তাদের কোন সহযোগিতা করা তার পাপ হবে। জর্জ জুনিয়র তার সব।
প্রবল একটা আবেগ উথলে উঠল তার হৃদয় থেকে। চোখ দু’টি তার অশ্রুতে ভারি হয়ে উঠল।
কিন্তু পরক্ষণেই জেনারেল শ্যারনের কথা , স্বজাতির কথা, তার পিতার কথা মনে হলো। তার পিতার, তার স্বজাতির কোন বিপর্যয় কি সে সহ্য করতে পারবে? পারবে না। তাহলে সে কি করবে এখন? ফাংশন বাটনের উপর তার তর্জ্জনি তখন। চাপ দেবে কি বাটনে? জর্জ জুনিয়র তার পাশেই । তার দেহের মধুর উত্তাপ সে অনুভব করতে পারছে। সে জানে না কি সর্বনাশ করতে যাচ্ছে সে।
ফাংশন বাটনের উপর রাখা তার তর্জ্জনি ভীষণভাবে কেঁপে উঠল। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল সাবা বেনগুরিয়ান দু’হাতে মুখ ঢেকে। সে এলিয়ে পড়ল চেয়ারের উপর।
জর্জ জুনিয়র সাবা বেনগুরিয়ানের মতই কম্পিউটারের এন্ট্রিগুলো পড়ছিল। অকল্পনীয় একটা সত্যের মুখোমুখি হয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েছিল সেও।
সাবা বেনগুরিয়ানকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখে জর্জ জুনিয়র বুঝল সাবা অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
জর্জ জন সাবা বেনগুরিয়ানের পিঠে হাত রেখে বলল, ‘এ তুমি কি করছ সাবা। এগুলো ইনফরমেশন মাত্র, রুটিন এন্ট্রি। এসব নিয়ে তুমি এত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে কেন?’
সাবার কান্না আরও বেড়ে গেল।
জর্জ জন জুনিয়র কম্পিউটার অফ করে দিয়ে সাবা বেনগুরিয়ানকে টেনে নিয়ে এসে বসল সোফায়। বলল, ‘তুমি এত নরম, ভাবনারও বাইরে ছিল আমার।’ সাবা বেনগুরিয়ানের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নরম কন্ঠে বলল জর্জ জুনিয়র।
‘জর্জ তুমি জান না, তোমার সাথে আমি কি বিশ্বাসঘাতকতা করতে যাচ্ছিলাম।’ দু’হাতে মুখ ঢেকে কান্না জড়িত কন্ঠে বলল সাবা বেনগুরিয়ান।
‘তুমি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে যাবে কেন? কি যা তা বলছ তুমি?’ সাবা বেনগুরিয়ানের কথার কোন আমল দিল না জর্জ জুনিয়র।
মুখ তুলল সাবা বেনগুরিয়ান। অশ্রু ধোয়া তার মুখ।
তার চোখে মুখে একটা সিদ্ধান্তের ছাপ। বলল সে, ‘বিশ্বাস করবে যদি বলি ইহুদী গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল শ্যারন আমাকে এখানে পাঠিয়েছিল সাংঘাতিক একটা উদ্দেশ্যে?’
বিস্ময়ের একটা ঢেউ খেলে গেল জর্জ জুনিয়রের চোখে মুখে। কিছুক্ষণ সে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সাবা বেনগুরিয়ানের দিকে। বলল ধীরে ধীরে, ‘তুমি মিথ্যা বলবে না। তোমাকে অবিশ্বাসের প্রশ্ন নেই। কিন্তু জেনারেল শ্যারনের সাথে তোমার কোথায় দেখা হলো? সাংঘাতিক সে উদ্দেশ্যটা কি?’
‘জেনারেল শ্যারন আব্বার বন্ধু। ওয়াশিংটন এলে আমাদের বাসাতেই ওঠেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, কম্পিউটারের লেটেস্ট এন্ট্রিগুলো মুছে ফেলা।’
বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার মত চমকে উঠল জর্জ জুনিয়র। তার বিস্ফোরিত চোখ সাবা বেনগুরিয়ানের উপর নিবদ্ধ। বলল, ‘তাহলে এন্ট্রিগুলোর সব তথ্য সত্য সাবা?’
‘আমার তাই বিশ্বাস। না হলে জেনারেল শ্যারন ইহুদী জাতি বিপন্ন হওয়ার দোহাই দিয়ে এই কাজ করায় আমাকে রাজী হতে বাধ্য করতে আসবেন কেন?’ চোখ মুছে ভারি গলায় বলল সাবা বেনগুরিয়ান
‘কিন্তু এই এন্ট্রি মুছে ফেললেই কি সব প্রমাণ মুছে যাবে? তারা……………।’
জর্জ জুনিয়রকে কথা শেষ করতে না দিয়ে বলে উঠল সাবা বেনগুরিয়ান, ‘জর্জ তারা শুধু এই একটি কাজ নয়, আমার আশংকা তারা আরও ভয়াবহ কিছু ঘটাতে যাচ্ছে।
জর্জ জুনিয়রের ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে উঠল। বলল, ‘ভয়াবহ? সেটা কি?।’
সাবা বেনগুরিয়ান কম্পিত গলায় বলল, ‘আজ সকালে আব্বার একটা মেসেজ জেনারেল শ্যারন আংকেলকে দেবার জন্যে আমাদের ড্রইং রুমে ঢুকছিলাম। ঠিক সে সময় আমি তাঁকে টেলিফোনে জনৈক বেনইয়ামিনকে বলতে শুনলাম যে, সে যেন লস আলামোসের প্রধান গেটের পাশে কোথাও আত্মগোপন করে থাকে এবং যে ডেথ স্কোয়াড তিনি লস আলামোসে পাঠাচ্ছেন তাদের খবরাখবর যেন সে পাঠায়।’
চমকে উঠে সোফায় সোজা হয়ে বসল জর্জ জুনিয়র। বলল, ‘ লস আলামোসে ইহুদী ডেথ স্কোয়াড? কি জন্যে? ওখানে আব্বারা আজ যাচ্ছেন, কিংবা তারা আজ ওখানেই আছেন? তাহলে কি……?’
কথা শেষ করতে পারল না জর্জ জুনিয়র।
‘আমি তোমার সাথে একমত জর্জ। তোমার আব্বার কম্পিউটার টার্গেট হবার সাথে সাথে তোমার আব্বাও টার্গেট হতে পারেন।’
কম্পিত কন্ঠে বলল সাবা বেনগুরিয়ান। তার চোখে মুখে আতঙ্ক।
ঝট করে উঠে দাঁড়াল জর্জ জুনিয়র। তারপর সাবার হাত ধরে টেনে নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বলল, ‘এস আব্বার কম্যুনিকেশন টেবিলে এস।’
কম্যুনিকেশন টেবিলে জর্জ জুনিয়র অয়্যারলেস কী বোর্ডের সবুজ বোতামে চাপ দিল।
‘ইয়েস স্যার।’ ওপার থেকে কথা বলে উঠল জন লিংকন।
জন লিংকন এফ.বি.আই-এর অপারেশন কমান্ডার।
‘আমি জর্জ জুনিয়র। আমি আব্বার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।’
‘কোন খবর আপনাদের কাছে আছে? আমরা তাঁর সাথে কনট্যাকটের চেষ্টা করছি।’
‘চেষ্টা করছি মানে, অয়্যারলেস, মোবাইলে তাকে কনট্যাকট করা যায়নি?’
‘কয়েকবার চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ হয়েছি আমরা। আমরা ‘সান্তাফে’ ও ‘লস আলামোসে’ আমাদের ইউনিটকে বিষয়টা জানিয়ে দিয়েছি। যে কোন সময় ওদের উত্তর আশা করছি। এদিকে একটা সাংঘাতিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁকে আমাদের জরুরী প্রয়োজন।’
‘সাংঘাতিক? কি ঘটেছে?’ বলল জর্জ জুনিয়র।
‘একটা বিস্ফোরণ ঘটে আমাদের মাস্টার কম্পিউটার ধ্বংস হয়ে গেছে।’
কেঁপে উঠল জর্জ জুনিয়র। সাবার দেয়া তথ্য তাহলে একশ ভাগ সত্য। ইহুদী গোয়েন্দাগিরী ও বিশ্বাসঘাতকতার সব প্রমাণ ধ্বংসের তারা একই সাথে উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের বাসার প্রমাণ রক্ষা পেয়েছ। কিন্তু এফ.বি.আই অফিসের প্রমাণ ধ্বংস হয়েছে। লস আলামোসে তাদের ডেথ স্কোয়াড পাঠানো কি সফল হয়েছে? তার আব্বার মোবাইল ও অয়্যারলেস নিরব কেন? তার গোটা দেহে আতংকের একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল।
নিজেকে সামলে জর্জ জুনিয়র বলল, ‘এমন নাশকতামূলক ঘটনা কিভাবে ঘটল অমন সংরক্ষিত জায়গায়?’
‘নাশকতামূলক ঘটনা বলছেন? কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি জনিত অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ হতে পারে।’ বলল এফ.বি.আই অপারেশন প্রধান জন লিংকন।
‘না মিঃ লিংকন আমি এর প্রতিবাদ করছি। একটা শত্রু পক্ষ কম্পিউটারে সংরক্ষিত কিছু অতি সাম্প্রতিক দলিল ধ্বংস করার জন্যেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওরা লস আলামোসে আব্বাদের টিমের উপরও হামলা করতে পারে আমার আশঙ্কা।’
কমান্ডার জন লিংকন দ্রুত কন্ঠে বলল, ‘মাফ করবেন, এটা আপনার অনুমান, না আপনার কোন নিশ্চিত তথ্য?’
‘মিঃ লিংকন, অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটে গেছে তারই প্রতিক্রিয়ায় শত্রু পক্ষ প্রমাণ ধ্বংস কৌশল হিসাবে এফ.বি.আই কম্পিউটারের রেকর্ড ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়ার মত করেই ওরা লস আলামোসে আজ ডেথ স্কোয়াড পাঠিয়েছে।’
‘সর্বনাশ! ধন্যবাদ মিঃ জর্জ জন। আমি বুঝতে পারছি। আমি এদিকের এবং লস আলামোসের বিষয়টা দেখার ব্যবস্থা করছি।’
অয়্যারলেস অফ করে দিয়ে জর্জ জন জুনিয়র ফিরল সাবা বেনগুরিয়ানের দিকে।
সাবা বেনগুরিয়ার সীমাহীন উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়েছিল জর্জ জন জুনিয়রের দিকে। বলল, ‘কি ব্যাপার জর্জ?’
‘তোমার তথ্য সত্য সাবা। ওরা প্রমাণ মুছে ফেলার জন্যে সব ব্যবস্থাই করেছে। এফ.বি.আই-এর মাস্টার কম্পিউটার ওরা ধ্বংস করেছে।’ শুকনো কন্ঠে বলল জর্জ জুনিয়র।
‘ও গড! আর তোমার আব্বার কথা?’ সাবা বেনগুরিয়ানের কন্ঠে উদ্বেগ।
জর্জ জুনিয়রের মুখ মলিন হয়ে উঠল। বলল, ‘কম্পিউটার বিস্ফোরণের পর এফ.বি.আই আব্বার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আব্বার মোবাইল ও ওয়্যারলেস দু’টিই কোন রেসপন্স করেনি।’
সাবা বেনগুরিয়ানের মুখ সাদা হয়ে গেল শোনার সাথে সাথেই। শুকনো ঠোঁট দু’টি তার কাঁপল, বলল, ‘স্যরি জর্জ, তোমাকে আরও আগে আমার জানানো উচিত ছিল। বিশ্বাস কর যখন আমি প্রথম ডেথ স্কোয়াডের কথা শুনি তখন কিছুই বুঝিনি। এমনকি জেনারেল শ্যারন যখন এই এ্যাসাইনমেন্টটি আমার উপর চাপিয়ে দেন, তখনও বুঝতে পারিনি। বুঝলাম এখানে এসে কম্পিউটারের লেটেস্ট এন্ট্রিগুলো পড়ার পর।’
জর্জ জুনিয়র সাবা বেনগুরিয়ানের একটা হাত হাতে নিয়ে বলল, ‘তোমার কোন ত্রুটি হয়নি সাবা, তুমি যথা সময়েই বলেছ।’
বলে একটু থামল জর্জ। একটু ভাবল। তারপর অনেকটা স্বগোতোক্তির মতই বলল, ‘ভাবছি লস আলামোসে যাব কিনা।’
‘তুমি গেলে আমিও যাব জর্জ।’ বলল সাবা বেনগুরিয়ান।
‘ঠিক আছে, আমি আরও একটু ভাবি। তোমাকে আমি টেলিফোন করব।’
‘ধন্যবাদ জর্জ।’
‘এখন উঠি তাহলে।’
বলে উঠে দাঁড়াল সাবা বেনগুরিয়ান। জর্জ জন জুনিয়রও উঠে দাঁড়াল। হাঁটছিল দু’জন।
জর্জের একটা হাত সাবা বেনগুরিয়ানের গলায় পেঁচানো। হাঁটতে হাঁটতে জর্জ সাবা বেনগুরিয়ানকে নিজের দিকে টেনে বলল, ‘তুমি না বললে কিছুই জানতাম না। তোমার জাতির স্বার্থে জেনারেল শ্যারনের অনুরোধ রক্ষা করলে না কেন? শুধুই কি আমার কারণে?’
সাবা বেনগুরিয়ান জর্জে দিকে চাইল। ম্লান হাসল। তারপর মুখ নিচু করল। বলল, ‘শুধুই তোমার কারণে নয়। শুধু তোমার কারনে হলে ওর দেয়া এই দায়িত্বই নিতাম না। ভাবতাম তোমাকে না জানিয়ে এ ধরনের কোন কিছুই করা ঠিক নয়। কিন্তু তা না ভেবে ভেবেছিলাম জাতির পক্ষে ঐ অনুরোধ রক্ষা করলে তা একটা অন্যায় হবে আমার জন্যে, তোমার অমর্যাদা তাতে হবে না।’
‘তাহলে জেনারেল শ্যারনের অনুরোধ শেষ পর্যন্ত রাখলে না কেন?’ জর্জ বলল।
‘এন্ট্রিগুলোর বিষয়বস্তু দেখে আমি তা মুছে ফেলতে পারিনি।’ বলল সাবা।
‘কেন? এন্ট্রিগুলো মুছে ফেলার জন্যে তোমার আগ্রহী হওয়া উচিত ছিলে। কারণ তোমার জাতির বিপদের কথা তখন তোমার কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছিল।’
‘দুই কারনে পারিনি। জাতির কিছু লোকের একাজকে আমার চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হয়েছে। দ্বিতীয়ত আমি আমেরিকান, আমেরিকার নাগরিক, এই চিন্তা তখন আমার কাছে বড় হয়েছিল।’
হাসল জর্জ জন জুনিয়র। আরও কাছে টেনে নিল সাবা বেনগুরিয়ানকে। বলল, ‘তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সাবা। আমাকে আশ্বস্ত করলে।’
‘কিভাবে আশ্বস্ত করলাম, কোন বিষয়ে?’ ব্যস্ত কন্ঠে বলল সাবা।
‘আশ্বস্ত হলাম যে, আমাকে কোন সময় তুমি ভালবাসতে না পারলেও দেশের প্রতি তুমি বিশ্বস্ত থাকবে। আর দেশের প্রতি এমন দায়িত্বশীল যে, সে তার সাথীর প্রতিও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য।’
‘তোমাকে ধন্যবাদ জর্জ। তুমি আমাকে বুঝতে পেরেছ? বিশ্বাস করেছ। তুমি ভুল বুঝলে, অবিশ্বাস করলে আমার বাচাঁ কঠিন হয়ে উঠতো।’ কান্না ভেজা ভারি কন্ঠ সাবা বেনগুরিয়ানের।
‘কিন্তু সাবা, তোমাকে অবিশ্বাস করার যন্ত্রণা তার চেয়েও বেশি কষ্ট আমাকে দিত।’
‘ধন্যবাদ। আমি অতি ভাগ্যবান জর্জ।’
‘আমিও।’
গাড়ি বারান্দায় তারা পৌছে গেছে।
জর্জ জন জুনিয়র এগিয়ে গিয়ে সাবা বেনগুরিয়ানের গাড়ির দরজা খুলে ধরল।
সাবা ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলে জর্জ গাড়ির দরজা বন্ধ করে বলল, ‘গুড নাইট সাবা, বাই।’
‘বাই। আমি তোমার টেলিফোনের অপেক্ষা করব জর্জ।’
বলে গাড়িতে স্টার্ট দিল সাবা বেনগুরিয়ান।