১
ডেভিড বেঞ্জামিন কোহেন (ডিবিসি) একটু ঝুঁকে পড়ে টেবিলের উপর রাখা একটা মানচিত্রের উপর গভীরভাবে চোখ বুলাচ্ছিল।
ডেভিড বেঞ্জামিন কোহেন এক মানুষ এক পৃথিবী সংগঠনটির ইউরোপ ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের নতুন প্রধান। রত্নদ্বীপে ব্ল্যাক সিন্ডিকেট-এর বিপর্যয়ের পর এক মানুষ এক পৃথিবীর পক্ষে সে এসেছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে।
মানচিত্রটি রত্নদ্বীপের।
রত্নদ্বীপের পাহাড়ের উচ্চতা ও লোকেশন, রাজধানী, নিরাপত্তা ঘাঁটিসহ প্রধান জনপদগুলোর অবস্থান, রাস্তার প্রধান জংশনগুলো, উপকূল থেকে এসবের স্কাই-রুট দূরত্ব ইত্যাদি নিখুঁতভাবে দেখানো আছে মানচিত্রে। রত্নদ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণের দুই প্রবেশপথের আরও বিস্তারিত নকশা আছে। মানচিত্রটিতে রত্নদ্বীপের চারদিকে অনেকগুলো রেড ডট। ডটগুলো থেকে রত্নদ্বীপের ভেতরের নানা লোকেশনের দূরত্ব দেখছে ডেভিড বেঞ্জামিন কোহেন।
তার বামপাশ থেকে বিপ বিপ শব্দ উঠল।
শব্দটা উঠল ডেভিড বেঞ্জামিন কোহেনের বামপাশের দেয়ালে সেট করা বড় স্ক্রিনের ডান টপের এক ফ্লাশিং নীল আলো থেকে। বিপ বিপ থেমে গেল কয়েক সেকেন্ডেই, আলোর ফ্লাশও। সেখানে ইনসেট একটা বক্সে ভেসে উঠল একটা ছবি।
ডেভিড বেঞ্জামিন কোহেন ছবির দিকে একবার তাকিয়েই মুখ সামনে। ঘুরিয়ে নিল। পা দুটি এগিয়ে গেল পা-দানির উপর প্রান্তের দিকে।
সামনের দরজাটা খুলে গেল সঙ্গে সঙ্গেই। ঘরে প্রবেশ করল এক মানুষ এক পৃথিবীর গোয়েন্দা প্রধান দানিয়েল ডিটমার।
দরজার দিকে তাকায়নি বেঞ্জামিন কোহেন। তার স্থির দৃষ্টি টেবিলের উপর নিবদ্ধ। মুখ গম্ভীর। কিন্তু তাতে খুব চিন্তার ছাপ নেই।
টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল দানিয়েল ডিটমার।
মাথা না তুলে দানিয়েল ডিটমারের দিকে না তাকিয়েই বলল, বস ডিটমার।
বসল দানিয়েল ডিটমার।
এবার বেঞ্জামিন কোহেন তাকাল দানিয়েল ডিটমারের দিকে। কিন্তু কিছু বলল না।
রত্নদ্বীপের পরবর্তী খবর নিয়েছি এক্সিলেন্সি। বলল দানিয়েল ডিটমার।
বলে যাও ডিটমার। বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
ব্ল্যাক সিন্ডিকেট ওদের হাতে ধ্বংস হবার পর ওরা মহা আনন্দে…।
দানিয়েল ডিটমারের কথায় বাধা দিয়ে বেঞ্জামিন কোহেন বলে উঠল, ওদের আনন্দের কথা আমি জানতে চাইনি ডিটমার।
স্যরি এক্সিলেন্সি, আমি বলতে চাচ্ছিলাম ওরা এতটাই আনন্দে আছে। যে, ভবিষৎ নিয়ে ওরা কেউ ভাবছে না। বলল দানিয়েল ডিটমার।
আহমদ মুসা চলে যাচ্ছে এমন কিছু জানা গেছে? জিজ্ঞাসা বেঞ্জামিন কোহেনের।
এমন কিছু জানা যায়নি। বলল দানিয়েল ডিটমার।
তাহলে কেমন করে বলছ ভবিষ্যৎ নিয়ে ওদের কোনো ভাবনা নেই? জান, অপ্রয়োজনে আহমদ মুসা একদিন কোথাও থাকে না? রেনেটা দুর্গ অপারেশন ও ব্ল্যাক সিন্ডিকেট ধ্বংস হবার দুদিন পরেও সে রত্নদ্বীপে থাকার অর্থ সেখানে তার মিশন শেষ হয়নি। বেঞ্জামিন কোহেন বলল। নিরস, শক্ত তার কণ্ঠস্বর।
এক্সিলেন্সি, রত্নদ্বীপের কমপক্ষে তিনটি ধনভাণ্ডার এখনও উদ্ধার হয়নি। বলল দানিয়েল ডিটমার।
ধনভাণ্ডার উদ্ধারের জন্য আহমদ মুসা রত্নদ্বীপে দুই দিন অপেক্ষা করবে, তা হতে পারে না। ও রকম হাজার হাজার ধনভাণ্ডারও আহমদ মুসার কাছে কিছু নয়। অর্থের পেছনে সে ছোটে না। আর ঐ তিনটা ধনভাণ্ডার উদ্ধার করা তার কয়েক ঘন্টার কাজ। এজন্যে সে দুইদিন সময় রত্নদ্বীপে নষ্ট করবে এমনটা অসম্ভব। বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
ঠিক এক্সিলেন্সি। আহমদ মুসা দুর্বোধ্যও। আমাদের এজেন্ট রত্নদ্বীপ নিরাপত্তা বাহিনীর একজন বড় অফিসারকে জিজ্ঞাসা করেছিল আহমদ মুসা কি তাড়াতাড়ি চলে যাবে? উত্তরে অফিসারটি বলেছিল এক ঘন্টা আগেও জানা যায় না আহমদ মুসা পরবর্তী ঘন্টায় কি করবেন। বলল দানিয়েল ডিটমার।
আহমদ মুসা দুর্বোধ্য নয়। কারও কাজের নির্ঘন্ট জানা না গেলেই সে দুর্বোধ্য হয় না। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে রত্নদ্বীপে আহমদ মুসার মিশন শেষ হয়নি। তার মিশনের কি অবশিষ্ট আছে, সেটাই জানা যাচ্ছে না। আমাদের মিশনটা কি সে জানতে পেরেছে? বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
তা মনে হয় না এক্সিলেন্সি। ব্ল্যাক সিন্ডিকেটের শীর্ষস্থানীয় কেউই ধরা পড়েনি। আর তাদের শীর্ষ পর্যায়ের চার পাঁচজন ছাড়া কেউই বিষয়টা জানতো না। সুতরাং আহমদ মুসা তা জানার কথা নয়। বলল দানিয়েল ডিটমার।
এটাই আশার কথা। কিন্তু আহমদ মুসা এখনও রত্নদ্বীপে তাহলে কেন? বেঞ্জামিন কোহেন বলল। তার চোখে-মুখে গভীর চিন্তার ছাপ।
আহমদ মুসা জানে না বলেই মনে করি। কিন্তু এক্সিলেন্সি, সে যদি জানতোই তাহলে কি বড় কোনো অসুবিধা হতো আমাদের? বলল দানিয়েল ডিটমার।
বেঞ্জামিন কোহেন মুখ তুলেছিল কিছু বলার জন্যে। তার পাশেই কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে বিপ বিপ শব্দ উঠল। সেই সাথে কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠল ওয়ান ওয়ার্ল্ড (এক মানুষ এক পৃথিবী)-এর ভূমধ্যসাগরীয় অপারেশন কমান্ডার জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
ঠিক আছে, ইয়াসার আসুক। সে গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে আসার কথা। প্রশ্নটার জবাব সে দিলেই ভালো হবে। বলল বেঞ্জামিন কোহেন।
খুলে গেল ঘরের দরজা।
জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন ঘরে ঢুকে বড় একটা বাউ করে এগিয়ে এল।
বেঞ্জামিন কোহেন তার টেবিলের একটা ম্যাপের দিকে তাকিয়েছিল। মাথা না তুলেই বলল বস।
বসল জেনারেল ইয়ামিন। বলল, ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি।
মুখ তুলল বেঞ্জামিন কোহেন। স্বাগত জানানোর মতো কিঞ্চিত মাথা তার ঝুঁকল। চোখে তার প্রশ্ন।
জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন পকেট থেকে এক খণ্ড কাগজ বের করে বলল, এক্সিলেন্সি, আপনি অনুমতি দিলে এই প্ল্যান আপনার সামনে রাখতে পারি।
আবার নীরবে মাথা ঝাঁকিয়ে অনুমতি দিল বেঞ্জামিন কোহেন।
জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন কাগজ খণ্ডটি খুলে বেঞ্জামিন কোহেনের সামনে রাখল। বলল, এক্সিলেন্সি, আজ রাত এগারোটার মধ্যে রত্নদ্বীপের চারদিকে আমাদের লংরেঞ্জ গানবোট এবং কামান ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধ জাহাজের অফেনসিভ সেটিং কমপ্লিট হয়ে যাবে।
তার সামনে রাখা প্ল্যানের নকশাটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল বেঞ্জামিন কোহেন।
সবাই নীরব।
পলপল করে সময় বয়ে যাচ্ছিল।
এক সময় মাথা তুলল বেঞ্জামিন কোহেন। বলল, ধন্যবাদ জেনারেল ইয়াসার। অভেনসিভ সেটিং অনন্ত ২৪ ঘন্টা এগিয়ে আনতে পেরেছ। এটাই হবে আমাদের ট্রাম কার্ড। কারও সাহায্য ওরা চেয়ে থাকলেও সেটা তাদের ২৪ ঘন্টা পিছিয়ে পড়বে। কিন্তু ২৪ ঘন্টা এগিয়ে আনতে গিয়ে শক্তির কিছু কাটছাট করতে হয়নি তো?
না এক্সিলেন্সি, আগের প্লানের বিন্দুমাত্র এদিক-সেদিক হয়নি। শুধু সময়টা এগিয়ে এসেছে। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
গুড। ওদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পাওয়া গেছে, এটাই বড় কথা। বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
এক্সিলেন্সি, আমরা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা কিনেছি। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা আমরা ফ্রি পেয়েছি। কয়েকটি ক্ষেত্রে স্বত:স্ফূর্তভাবে কিছু স্বেচ্ছাসেবক আমাদের অভিযানে যোগ দিয়েছে। আমাদের মতো তারাও চায় একক রাষ্ট্রের অধীনে আন্ত:ধর্ম সহাবস্থানের ঐ মডেলটা ধ্বংস হোক। এই শান্তি ও সহাবস্থানের অর্থ ইসলাম ধর্মকে এগিয়ে দেয়া। এটা হতে দেয়া যাবে না। বলল জেনারেল ইয়াসার।
ব্রাভো! এই সেন্টিমেন্টেরই তো আমরা উজ্জীবন চাই। আচ্ছা যাক, এখন বল, এখন করণীয় কি? বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
এক্সিলেন্সি, রাত ১১টার মধ্যে রত্নদ্বীপের চারদিকে আমাদের অস্ত্র মোতায়েন কমপ্লিট হবে। রাত ১২টা থেকে অভিযানের জন্যে আমরা প্রস্তুত থাকব। আমরা আপনার নির্দেশের অপেক্ষা করছি। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
আচ্ছা তোমরা টার্গেট করেছ রাজধানীকে, নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানগুলোকে, বাজার ও লোকালয়গুলোকে। কিন্তু এগুলো কি তোমাদের কামান ও ক্ষেপশন্ত্রের আওতায় আনতে পেরেছ? বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
এক্সিলেন্সি, আমরা আগেই ক্ষেপণান্ত্র মোতায়েনের স্থান থেকে প্রত্যেকটি টার্গেটের ডিস্ট্যান্স মেপে নিয়েছি। কোন্ লোকেশান কোন্ ডিস্ট্যান্স কভার করবে, আগেই তার ডিটেইল চার্ট তৈরি করা হয়। সেই অনুসারেই আজ আমাদের গানবোট ও জাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সুতরাং কোনো টার্গেটই আমাদের আওতার বাইরে নেই। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
এখন বল, আহমদ মুসা কি করছে রত্নদ্বীপে? আমাদের পরিকল্পনা তার কাছে ধরা পড়ে যায়নি তো? বেঞ্জামিন কোহেন বলল।
সে রকম মনে হয় না এক্সিলেন্সি। রত্নদ্বীপের সর্বত্র এখন আনন্দ ও গা-ছাড়া। ভাব। রত্নদ্বীপের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেও বিশেষ নড়াচড়া নেই। তারা বিষয়টা জানলে তাদের মধ্যে আনন্দের বদলে আতঙ্ক থাকতো। হতে পারে। এক্সিলেন্সি, দ্বীপের সরকার আহমদ মুসাকে এখনও রেখেছে সম্ভবত এই কারণে যে, দ্বীপরাষ্ট্র শক্তিশালী করার জন্যে আহমদ মুসার কাছ থেকে তারা নানা পরিকল্পনা, প্রকল্প নিচ্ছে। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন ঠিক বলেছেন। আহমদ মুসার কাছে পরামর্শ তারা চাইতে পারে। যা ঘটেছে, তার প্রেক্ষিতে তাদের নীতি-পলিসির সংশোধন উন্নয়ন হতে পারে। আর এক্ষেত্রে আহমদ মুসার চেয়ে বড় পরামর্শদাতা আর কেউ হতে পারে না। গোয়েন্দা প্রধান দানিয়েল ডিটমার বলল।
ধন্যবাদ। এ রকমটা ঘটতে পারে। এরপরও বলি যদি কোনো পর্যায়ে তারা জানতে পারে আমাদের অভিযানের কথা? বলল বেঞ্জামিন কোহেন।
জানতে পারলেও তারা আমাদের আক্রমণ ঠেকাতে পারবে না। সময় কোথায় তার? এক্সিলেন্সি আদেশ দিলে আজই রাত ১২টা থেকে যেকোনো সময় আমরা অপারেশনে যেতে পারি। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
তারা আমাদের আক্রমণ ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু কিছু তো করতে পারে। সেটা কি? তোমরা কি তা ভেবেছ? বেঞ্জামিন কোহেন ববল।
এক্সিলেন্সি, চার দিন আগে আমরা ৬জন গোয়েন্দা পাঠিয়েছি রত্নদ্বীপে, বিশেষ করে আহমদ মুসার গতিবিধি মনিটর করার জন্যে। ওরা সবাই আলজিরিয়ার ইহুদি পরিবারের লোক। ওরা সব সময় আমাদের আপডেট করছে। জানিয়েছে ওরা, পূর্ব থেকেই রত্নদ্বীপের চারটি গানবোট ছিল। কয়েকদিন আগে নতুন দশটি যোগ হয়েছে। মোট ১৪টি। এদের দুটিকে গানবোট হিসেবে ধরার মতো। এ দুটি গানবোটে ৪টি করে টর্পেডো টিউব এবং ৪টি করে দশমাইল রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্র সেল রয়েছে। বহুমুখী এই গানবোট দুটি আহমদ মুসা যোগাড় করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তার বন্ধুদের কাছ থেকে ৭ দিন আগে। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
হাসল বেঞ্জামিন কোহেন। বলল, আমরা আর উপকূলে নামতে যাচ্ছি।। ঐ গানবোটগুলো দিয়ে কি হবে ওদের! পানিতে তো আর যুদ্ধ হচ্ছে না, যুদ্ধ হচ্ছে আকাশ পথে। একসাথে শত কামান, শত ক্ষেপণাস্ত্র গর্জে উঠবে। খুব বেশি লাগলে সময় লাগে তিরিশ মিনিট। এর মধ্যেই রত্নদ্বীপের রাজধানীসহ ওদের জনপদগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি। আপনি যা বলেছেন সেটাই, ঠিক সেটাই ঘটতে যাচ্ছে। আপনি আদেশ দিন এক্সিলেন্সি। আমি আপনার আদেশ নেবার। জন্যে এসেছি এক্সিলেন্সি। বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
অপরেশন শুরুর আগে কি আমাদের গোয়েন্দা ছয়জন ফিরে আসছে? গোয়েন্দা প্রধান দানিয়েল ডিটমার বলল।
স্যার, আপনি যা চান, সেটাই হবে। বলল জেনারেল ইয়াসার।
আগে আমি ভেবেছিলাম ফিরিয়ে আনব। আমাদের ছয়জন লোকের দাম অনেক। কিন্তু এখন ভাবছি, নোম্যানস ল্যান্ডের কোথাও আশ্রয় নিয়ে ওদের আত্মরক্ষা করতে বলব। ওরা দ্বীপে থাকা দরকার। ধ্বংসের প্রাইমারি রিপোের্ট তাদের কাছ থেকেই আমরা চাই। আরেকটি কথা, ওদের উপর নির্দেশ আছে, অপারেশন শুরুর আগ মুহূর্তে আহমদ মুসাকে হত্যা করার। সুযোগ নেয়ার ধ্বংস থেকে আহমদ মুসা যদি কোনো রকমে বেঁচে যায়, সেটা হবে আমাদের জন্যে বিপজ্জনক। দানিয়েল ডিটমার বলল।
ধন্যবাদ দানিয়েল ডিটমার, তুমি ঠিক চিন্তা করেছ। আহমদ মুসা কোনোওভাবে যাতে বেঁচে না যায়, সেটা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তুমি আবার আমাদের গোয়েন্দাদের সাথে কথা বল। আহমদ মুসাকে হত্যা করা ওদের এখনকার নাম্বার ওয়ান প্রাইওরিটি। বলল বেঞ্জামিন কোহেন।
কথা শেষ হতেই বেঞ্জামিন কোহেনের অয়্যারলেস বিপ বিপ শব্দ করে উঠল। তুলে নিলেন তিনি তার অয়্যারলেস। অয়্যারলেস কানের কাছে নিয়ে নীরবে তিনি ওপারের কথা শুনলেন। সবশেষে বললেন, আপনি ঠিক শুনেছেন। এটাই এখনও কনফার্ম আছে। জিহোভার কাছে প্রার্থনা করবেন প্লিজ আমাদের জন্যে। টেলিফোন করে খোঁজ নেয়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
অয়্যারলেস অফ করে দ্রুতকণ্ঠে বলল, সর্বনাশ আমাদের এই অপারেশনের খবর বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ জানতে পারল কি। করে? কে জানাল? ইসরাইলি গোয়েন্দা বিভাগ? হ্যাঁ, তা হতে পারে। ইসরাইলের গোয়েন্দাদের মধ্যে বৃটিশদের প্রতি সিমপ্যাথাইজার অনেক আছে। তাদের কাজ এটা হতে পারে। স্যরি, আমাদের অভিযানকে অল প্রফ করতে পারিনি।
বুঝতে পারছি না এক্সিলেন্সি, আমরা কেন তাদের এই রিপোর্ট কনফার্ম করলাম! বিনয়জড়িত কণ্ঠে বলল জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন।
হাসল বেঞ্জামিন কোহেন। বলল, কোনো ক্ষতি হয়নি এতে আমাদের, কিন্তু মহালাভ হয়েছে। আমরা জানতে পারলাম আমাদের অতি সিক্রেট তথ্যটা বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছেছে। তবে আমার মনে হয় তাদের কাছে আমাদের আগের সিদ্ধান্তটা পৌঁছেছে। পরের সিদ্ধান্ত তারা। জানতে পারেনি। আমি কনফার্ম করলাম এই কারণে যে, তারা এবং আমাদের প্রতিপক্ষ ভুল তথ্যের উপর থাকুক। আমি নিশ্চিত বৃটিশ গোয়েন্দারা জানতে পারলে সেটা সিআইএ, এফবিআই পর্যন্ত অবশ্যই। পৌঁছেছে। আর সিআইএ, এফবিআই জানার অর্থ আহমদ মুসাও জেনেছে। আহমদ মুসা কিছু করলে, তার জন্যে আরও ২৪ ঘন্টা সময় নেবে।
মুহূর্তের জন্যে একটু থামল বেঞ্জামিন কোহেন। বলল, জেনারেল ইয়াসার, তুমি যে সিদ্ধান্ত চাচ্ছ তার জন্যে সময় এখনও হয়নি। তুমি ও দানিয়েল ডিটমার আজ রাত ৯টায় এসো। সিদ্ধান্ত তখন নেব। ইতিমধ্যে রত্নদ্বীপে আমাদের ছয় গোয়েন্দাকে নির্দেশ দাও, এই মুহূর্ত থেকে তারা যেন আহমদ মুসাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত। আর জেনারেল, আবার খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হও যে আজ রাত ১১টার মধ্যে রত্নদ্বীপের চারদিকে আমাদের নৌবহরের অফেনসিভ মোতায়েন সম্পন্ন হচ্ছে।
বলেই উঠে দাঁড়াল বেঞ্জামিন কোহেন।
উঠল দানিয়েল ডিটমার ও জেনারেল ইয়াসার ইয়ামিন। বলল, গুড বাই স্যার, আমরা আসছি।
সময় রাত সাড়ে ৯টা।
আহমদ মুসার গাড়ি ফিরছিল রত্নদ্বীপের উত্তর গেট-বন্দর থেকে। রাস্তায়। খুব একটা ভিড় নেই। গাড়ি দ্রুত চলছিল রাজধানীর উদ্দেশ্যে।
গাড়ির ড্রাইভিং সিটে আহমদ মুসা। পেছনের সিটে সিকুরিটির দুজন লোক।
আহমদ মুসা বেরিয়েছিল বোটে করে রত্নদ্বীপের উত্তরাঞ্চলের উপকূল দেখতে। তার ভাবনা, পাওয়া খবর সত্য হলে আগামী কালের রাতটা হবে রত্নদ্বীপের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক। বন্ধু দেশগুলোর সাহায্য যথাসময়ে পৌঁছবে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পরেও রাতটা বিপজ্জনক। ওর অন্ধকার শরীরে কি আছে, তা আল্লাহই মাত্র জানেন। তাই রত্নদ্বীপের চারদিকের উপকূলটা আরও একবার ভালো করে দেখতে চেয়েছিল আহমদ মুসা। এভাবে দেখার সময় আহমদ মুসা রত্নদ্বীপের চারদিকের পাহাড়ের কোনটার কি উচ্চতা তা মেপে নিয়েছে এবং একটা গ্রাফও তৈরি করেছে। গ্রাফের প্রতিটি ভাজে উচ্চতা লেখা হয়েছে। ব্যাপারটা করতে পেরে মনটা আনন্দে তার ভরে গিয়েছিল।
গাড়ির সামনে চোখ থাকলেও এসব ভাবনা আহমদ মুসাকে আনমনা করে ফেলেছিল।
সামনেই রাস্তার একটা জংশন। ডান ও বাম দুই দিক থেকে দুই রাস্তা এসে এই প্রধান হাইওয়ের সাথে মিশেছে।
আহমদ মুসা দেখতে পেল দুই দিকের রাস্তা দিয়ে ছুটে আসা চারটি হেডলাইট। হাইওয়ে থেকে অল্প দূরত্বে ছুটে আসা চারটি হেডলাইট দাঁড়িয়ে গেল হঠাৎ করেই। হাইওয়ে থেকে গাড়ি দুটির অবস্থান প্রায় সমদূরত্বে। আপনাতেই আহমদ মুসার কুঞ্চিত হয়ে উঠলেও গাড়ির চলায় কোনো ব্যত্যয় ঘটল না। হাইওয়ে বরাবর বেশ দূরে লাল-নীল আলোর জিগজ্যাগ ফ্লাশ দেখতে পেল। বুঝল আহমদ মুসা, ওটা পুলিশের গাড়ি।
আহমদ মুসার গাড়ি তখন হাইওয়ের জাংশন থেকে ২০ গজের মতো দূরে। দুপাশে দাঁড়ানো দুটি গাড়িও হাইওয়ে জাংশন থেকে এ ধরনেরই দূরত্বে।
ফাঁকা রাস্তা। প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে চলছিল আহমদ মুসার গাড়ি।
হঠাৎ দুটি গুলি এবং বিকট শব্দে টায়ার ফাটার দুটি শব্দ কানে এল। কিছু ভাবার আগেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি এবং ওলটপালট শুরু হলো। প্রবল বেগে আহমদ মুসা জড়িয়ে ধরেছিল স্টিয়ারিং হুইল। বুদ্ধি তার যেন ভোতা হয়ে গিয়েছিল। দেহটা কয়েকবার ওলটপালট খেল। শেষ পর্যন্ত আহমদ মুসা স্টিয়ারিং হুইল ধরে রাখতে পারেনি। আহমদ মুসার দেহটা সবশেষে ছিটকে পড়েছিল গিয়ে গাড়ির দরজার উপর। দরজায় ধাক্কা খেয়ে তার দেহটা গিয়ে পড়েছিল দরজা ও স্টিয়ারিং হুইলের মাঝখানে। তার পায়ের অংশটা ছিল সিটের উপর, আর মাথার দিকটা পড়েছিল সিটের নিচে স্টিয়ারিং হুইলৈর। পাশে।
আহমদ মুসা জ্ঞান হারায়নি, এক ধরনের অবচেতন ভাব সৃষ্টি হয়েছিল। তার মধ্যে। তাই কি ঘটছে তা সে ফলো করতে পারেনি। কিন্তু তার দেহটা যখন স্থির হলো, চোখ খুলে সে দেখতে পেল স্টিয়ারিং হুইলের গোড়ায় তার মাথা। তার কপাল, তার মুখমণ্ডল ভিজা। একটা গরম স্রোত নেমে যাচ্ছে ডান কানের পাশ দিয়ে। অনুভব করল ডান চোখের উপরে কপালে প্রচণ্ড যন্ত্রণা। বুঝল কপাল ফেটে গেছে। তারই রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে মুখমণ্ডল, কানের পাশ দিয়ে। সে অনুভব করল শরীরের নানা স্থানে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়েছে। তার স্মরণে এল, সে গুলির শব্দ শুনেছিল আর দুটি টায়ার ফাটার শব্দও পেয়েছিল। তারপরেই ওলট-পালট। কথাগুলো মনে হতেই আহমদ মুসার হাত চলে গেল জ্যাকেটের পকেটে। রিভলবারটা পকেট থেকে পড়ে যায়নি।
গাড়ির জানালা প্রচণ্ড শব্দে ভেঙে পড়ার আওয়াজে ওদিকে ফিরে তাকাল আহমদ মুসা। তার সাথে হাতের রিভলবারটাও তুলল।
তাকিয়ে আহমদ মুসা দেখতে পেল ভেঙে যাওয়া জানালার পেছনে তিনটি মুখ। তাদের চোখ হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখল আহমদ মুসা। ছুটে আসছিল দুটি রিভলবারের নল জানালা দিয়ে।
আহমদ মুসা আগেই তার রিভলবার বের করে নিয়েছিল। সুতরাং এমন কিছুর জন্যে প্রস্তুত ছিল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসার রিভলবার দ্রুত টার্গেটে উঠে এসেছিল।
রিভলবারটা একেবারেই স্বয়ংক্রিয়। ট্রিগার চেপে রাখলেই ছটি গুলি। বিরতিহীনভাবে বেরিয়ে যায়।
ওদের আগেই আহমদ মুসার রিভলবার গুলি বৃষ্টি শুরু করেছিল। জানালার তিনটি মুখই ঝরে পড়ে গেল জানালার বাইরে।
ঠিক এ সময় গাড়ির ওপাশের দিক থেকে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ হলো। সেই সাথে গাড়ির ডান জানালায় আর্তনাদ।
আহমদ মুসা তাকাল ডান জানালার দিকে। দেখতে পেল একাধিক লোক জানালার ওপাশে পড়ে গেল। ব্রাশ ফায়ার কে বা কারা করল? পুলিশের ঐ গাড়িটা কি এসে পৌঁছেছে? বুঝতে পারল আহমদ মুসা, দুপাশের রাস্তার দুই গাড়ি ছিল শত্রুদের। দুই গাড়ি থেকে গুলি করে তার গাড়ির দুই টায়ার ফাটিয়ে দেয়া হয়েছিল। ওরাই দুদিক থেকে ছুটে এসেছিল তার গাড়ির দুই জানালায়।
গাড়ির বাম জানালার দিকে আবার শব্দ হলো।
আহমদ মুসার রিভলবার দ্রুত উঠে এল জানালা লক্ষ্যে।
জানালার দিক থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল, স্যার, আমি মেজর পাওয়েল পাভেল। আপনি কেমন আছেন স্যার? আমরা উদ্বিগ্ন।
কথার সাথে সাথে মেজর পাওয়েল পাভেল ও কর্নেল জেনারেল রিদা জানালার সামনে এসে দাঁড়াল।
দাঁড়িয়েই চিৎকার করে উঠল, কর্নেল জেনারেল রিদা স্যার, আমাদের আহমদ মুসা স্যার মারাত্মক আহত।
বলেই মেজর পাওয়েল পাভেল গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করতে লাগল।
দরজা দুমড়ে মুচড়ে গেছে। খোলা সম্ভব হলো না।
আহমদ মুসা টলতে টলতে তার শোয়া অবস্থা থেকে উঠল।
মেজর পাভেল ততক্ষণে গুলি করে দরজার লক উড়িয়ে দিয়েছে এবং তার সাথীদের নিয়ে টেনে দরজা খসিয়ে ফেলেছে।
আহমদ মুসাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে মেজর পাভেলরা ছুটে এল।
আহমদ মুসার মুখ ও সামনের দিকটা রক্তাক্ত।
মেজর পাভেল, আমি ঠিক আছি। গাড়ির পেছনের সিটে দুজন। সিকুরিটির লোক ছিল। তাড়াতাড়ি দেখ তাদের কি অবস্থা। তাড়াতাড়ি কর। গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া উঠছে। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বলল আহমদ মুসা।
দেখছি স্যার। বলেই মেজর পাভেল পেছনে তাকিয়ে নির্দেশ দিল, তোমাদের দুজন লোক এদিক দিয়ে গাড়িতে ঢোকাও আর কয়েকজন গাড়ির দরজা খোল, না হয় ভেঙে ফেল। যেকোনো দিক দিয়ে তাদের দ্রুত বের কর।
আহমদ মুসা বেরিয়ে এল গাড়ি থেকে।
মেজর পাভেল তাকে তার গাড়ির দিকে নিতে নিতে বলল, স্যার, আপনি সংজ্ঞাহীন থাকলে বিপদ হতো। ওদের টার্গেট ছিল আপনাকে হত্যা করা। সংজ্ঞায় বা সংজ্ঞাহীন যে অবস্থায় থাকুন, গুলি করে ওরা আপনার দেহকে ঝাঁঝরা করে দিত। গাড়ির কাছে আসা লোকদের এই নির্দেশই দিচ্ছিল পেছনের একজন।
আল্লাহ সহায় মেজর পাভেল। কথায় আছে, ম্যান প্রোপোজেস, গড় ডিসপোজেজ।
বলে আহমদ মুসা পেছন দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু বলা হলো না। গাড়িটা জ্বলে উঠেছে। বিস্ফোরণ ঘটেছে গাড়ির ইঞ্জিনে।
আল হামদুলিল্লাহ। সিকিউরিটির দুজনকে ওরা ঠিক সময়ে বের করতে পেরেছে। মনে হচ্ছে ওরা সংজ্ঞাহীন। বলল আহমদ মুসা।
স্যার, আপনি মারাত্মক আহত। ওদের নিয়ে এত ভাবছেন স্যার? মেজর পাভেল বলল।
আমি বুঝতে পারছি আমি ভালো আছি। ওদের নিয়েই তো চিন্তা হবার কথা। ওদের অবস্থা জানি না। বলল আহমদ মুসা। ( কথা শেষ করেই আহমদ মুসা এগোলো গাড়ির দিকে। বসল গাড়িতে নিজে নিজেই। মেজর পাভেলও তার সাথে সাথে এসেছিল।
গাড়িতে বসেই আহমদ মুসা সিটে হেলান দিয়ে বলল, মেজর পাভেল, আক্রমণকারীরা কয়জন ছিল?
ছয়জন স্যার। মেজর পাভেল বলল।
ওদের তো সার্চ করা হয়নি। তুমি যাও, ওদের ছয়জনের পকেটে কাগজ জাতীয় কিছু পাওয়া গেলে সেগুলো এবং ওদের প্রত্যেকের মোবাইল নিয়ে এসো। বলল আহমদ মুসা।
স্যার, আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন। কমপক্ষে এখনি ফাস্ট এইড প্রয়োজন। কর্নেল জেনারেল স্যার আসছেন। এক্সিলন্সি প্রেসিডেন্ট এখনি আপনাকে হাসপাতালে নিতে বলেছেন। তারা সেখানে অপেক্ষা করছেন। মেজর পাভেল বলল।
তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন ওরা কারা, কি ওদের মিশন? সেটা জানা। তুমি যাও। আমি ওদিক দেখব। বলল আহমদ মুসা।
মেজর পাভেল আর কিছু না বলে নিহত ঐ ছয়জন লোকের সার্চ করার জন্যে চলে গেল।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই রত্নদ্বীপ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কর্নেল জেনারেল রিদা এসে পৌঁছল। তার সাথে এসেছে একটা অ্যাম্বুলেন্স। সার্চ শেষে মেজর পাভেলও এসে দাঁড়াল আহমদ মুসার সামনে।
আসুন। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে স্যার। বলল কর্নেল জেনারেল রিদা।
একটু সময় দিন জেনারেল রিদা। বলে আহমদ মুসা তাকাল মেজর পাভেলের দিকে। বলল, সার্চ করে কিছু পেলে?
মোবাইল ছাড়া নেবার মতো আর কিছুই ছিল না স্যার। হাতের মোবাইলগুলো দেখিয়ে বলল মেজর পাভেল।
আহমদ মুসা একটু ভেবে বলল, খুবই সাম্প্রতিক ধরনের, ধরো আজকের বা গতকালকের কোনো কল বা মেসেজ আছে কি না তাড়াতাড়ি চেক করো।
একটা মোবাইলে কাজ শুরু করল মেজর পাভেল।
দুএকটা মোবাইল আমাকে দাও মেজর পাভেল, তোমাকে একটু সাহায্য করি। কর্নেল জেনারেল রিদা বলল।
ধন্যবাদ স্যার! বলে দুএকটা মোবাইল তুলে দিল জেনারেল রিদার হাতে।
প্রথম মোবাইলের মেসেজ চেক করতে গিয়েই মেজর পাভেল বলে উঠল, একটা মেসেজ পাওয়া গেছে স্যার। মাত্র আধা ঘণ্টা আগে এসেছে।
আধা ঘণ্টা আগে? পড় তো পাভেল? বলল আহমদ মুসা।
বিফোর জিরো আওয়ার টি এন মুভ টু নোম্যানস জোন। পাভেল পড়ল।
শুনেই চমকে উঠল আহমদ মুসা। একবার বাক্যটা মুখে উচ্চারণ করেই। দ্রুত কণ্ঠে জেনারেল রিদাকে বলল, জেনারেল রিদা, আপনি হোম মিনিস্টারকে টেলিফোন করে প্রেসিডেন্টকে বলতে বলুন যাতে সর্বোচ্চ ইমারজেন্সি দিয়ে এখনি মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকতে পারেন। আরও বলুন, দ্বীপের সবগুলো কেন্দ্রকে নির্দেশ দিতে যে, সব রকমের গাড়ি যেন সবাই প্রস্তুত রাখে এই মুহূর্তের পর থেকেই। আহমদ মুসা কথা শেষ করল। তার সব সময়ের শান্ত কণ্ঠেও উদ্বেগের আভাস।
মুখ চুপসে গেছে কর্নেল জেনারেল রিদা এবং মেজর পাভেলের।
মেসেজে কিছু কি আছে স্যার? আমরা কিছু বুঝতে পারছি না। মোবাইল হাতে নিয়ে কল তৈরি করতে করতে বলল কর্নেল জেনারেল রিদা।
গুরুতর মেসেজ জেনারেল। ওরা আজ রাত ১২টায় রত্নদ্বীপ আক্রমণ। করছে। বলল আহমদ মুসা।
আজ রাত ১২টায়! আর্তনাদ করে উঠল জেনারেল রিদা ও মেজর পাভেল দুজনের কণ্ঠই।
মুখে আর্তনাদ করলেও আহমদ মুসার মুখে কথাটা শোনার সাথে সাথেই তারা দুজনেই অ্যাটেনশনের ভঙ্গিতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।
যদি তাই হয় তাহলে দ্বীপকে রক্ষার জন্যে আমরা মৃত্যুর জন্যেও প্রস্তুত স্যার। কর্নেল জেনারেল রিদা বলল।
ধন্যবাদ জেনারেল রিদা। মৃত্যুকে ভয় না করলে বাঁচাটা সহজ হয়ে যায়। বলল আহমদ মুসা। ||||||||
|| হোম মিনিস্টারের টেলিফোন এল। তার সাথে কথা বলছিল জেনারেল রিদা।
এক সময় সে মোবাইলটা মুখের কাছ থেকে সরিয়ে আহমদ মুসার দিকে চেয়ে বলল, স্যার, হোম মিনিস্টার স্যার আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন।
জেনারেল রিদা মোবাইল আহমদ মুসার হাতে দিল।
আহমদ মুসা মোবাইল ধরতেই ওপ্রান্ত থেকে হোম মিনিস্টার ক্রিস কনস্টানটিনোস বলল, স্যার আমরা উদ্বিগ্ন, আপনি কেমন আছেন? আমরা সবাই হাসপাতালে। আরেকটা বড় উদ্বেগের খবর আপনি দিলেন জেনারেল রিদার মাধ্যমে। আমি কিছুই বুঝছি না।
বিষয়টা টপ ইমারজেন্সি। আজ রাত ১২টার পরে রত্নদ্বীপ আক্রান্ত হতে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। বলল আহমদ মুসা।
কিছুক্ষণ ওপার থেকে কোনো কথা এল না। মুহূর্ত কয়েক পরে কথা বলে উঠল ক্রিস কনস্টানটিনোস-এর কণ্ঠ। কণ্ঠ তার কাঁপা, উদ্বেগ-উত্তেজনায় ভাঙা। বলল, ও গড! এখনি আমি প্রেসিডেন্টকে বিষয়টা জানাচ্ছি। প্রেসিডেন্টসহ অনেকেই আমরা হাসপাতালে। এখানেই যদি আমরা বসি?
ভালো হবে। সময় বাঁচবে। আমরা আসছি। বৈঠকটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাওয়া দরকার। বলল আহমদ মুসা।
ধন্যবাদ স্যার। রাখি তাহলে? ক্রিস কনস্টানটিনোস বলল।
ওকে, রাখছি স্যার। বাই। বলে আহমদ মুসা মোবাইল কল ক্লোজ করল।
আহমদ মুসার সামনেই দাঁড়িয়েছিল জেনারেল রিদা। আগেই রেডি ছিল। অ্যাম্বুলেন্স। ২ স্যার অ্যাম্বুলেন্সে উঠুন। ওখানেই আপনার প্রাথমিক চিকিৎসটা হয়ে
যাবে। জেনারেল রিদা বলল।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, আমি আহত মনে করিয়ে আমাকে দুর্বল করবেন না। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিককেও যুদ্ধ করতে হয়। মনে হচ্ছে রত্নদ্বীপ এখন একটা মহাযুদ্ধক্ষেত্র।
আহমদ মুসা উঠে গিয়ে একটা জীপের ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। জেনারেল রিদা উজ্জ্বল চোখে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে নীরবে তার। পাশের সিটে গিয়ে বসল।
স্টার্ট নিল গাড়ি।
সামনে আহমদ মুসার গাড়ি।
তার পেছনে মেজর পাভেল।
সবার পেছনে অ্যাম্বুলেন্স।
গাড়ির সারির এই ক্ৰম আহমদ মুসাই সাজিয়েছিল।
আহমদ মুসা ধরেই নিয়েছিল, যারা তাকে হত্যার জন্যে তিন দিক থেকে আক্রমণ করেছিল, তারা আবারও আক্রমণ করতে পারে। তারা ধরেই নেবে। আহমদ মুসাকে অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হবে। সুতরাং কাজ হলো তাদের বিপথে। ডাইভার্ট করা। আহমদ মুসারা এরই সুযোগ গ্রহণ করবে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে তাদের কাউকে হাতে পাওয়া খুবই প্রয়োজনীয়।
কিন্তু পথে কোনো আক্রমণ এলো না।
তাহলে কি তাদের কোনো লোক নেই এদিকে? ভাবল আহমদ মুসা। হাসপাতালে পৌঁছে গেল আহমদ মুসার গাড়ি।
সিকিউরিটির লোকজন গিজগিজ করছে হাসপাতালের চারদিকে। মুহূর্তে ওরা আহমদ মুসার গাড়ির দুধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেল।
আহমদ মুসার গাড়ি এসে ঢুকল হাসপাতালের গাড়ি বারান্দায়। গাড়িবারান্দার উপরে হাসপাতালে ঢোকার মুখে লবির মতো জায়গাটায় দাঁড়িয়েছিল প্রেসিডেন্ট। তার একপাশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার কয়েজন সদস্য। প্রেসিডেন্টের অন্যপাশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কনস্ট্যানটিনোস-এর মেয়ে জোনা ডেসপিনা এবং জাইনেব জাহরা।
জোনা ডেসপিনা ও শাহজাদী জাইনেব জাহরার গায়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহি নীর ইউনিফরম। প্রেসিডেন্টের পেছনে তার বড় ছেলে হামযা আনাস আমিন। তারও গায়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ইউনিফরম। এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠিত হয়েছে আহমদ মুসার নির্দেশে ছাত্র-অছাত্র, কর্মী, চাকুরেসহ যুবশক্তির সবাইকে নিয়ে।
গাড়িবারান্দা পার হয়ে আহমদ মুসার গাড়ি গিয়ে দাঁড়াল লবির গা ঘেঁষে।
আহমদ মুসা ড্রাইভিং সিট থেকে নেমেই তরতর করে উঠে গেল সিঁড়ি দিয়ে। সে যে মারাত্মক আহত তার কোনো চিহ্ন নেই তার নড়াচড়ায়।
আহমদ মুসার পেছনে উঠছিল কর্নেল জেনারেল রিদা এবং মেজর পাভেল।
আহমদ মুসা লবিতে উঠে আসতেই প্রেসিডেন্ট আহমদ মুসাকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল। বলল, আল্লাহর হাজার শোকর যে, আপনার আর কোনো ক্ষতি হয়নি।
বলেই প্রেসিডেন্ট একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তারকে বলল, ডাক্তার, তুমি ভাই আহমদ মুসার ট্রিটমেন্টটা তাড়াতাড়ি করে দাও। অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ডাক্তার দ্রুত এগিয়ে এল। সালাম দিল আহমদ মুসাকে।
অন্য সবাই আহমদ মুসার কাছে এগিয়ে এসেছে।
ডাক্তার কিছু বলতে যাচ্ছিল আহমদ মুসাকে।
আহমদ মুসা মুখ প্রেসিডেন্টের দিকে ঘুরিয়ে বলল, প্লিজ এক্সিলেন্সি, খুবই জরুরি আলোচনা রয়েছে। আমার কথা আগে শুনুন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত অবস্থাতেও প্রয়োজনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়। এক্সিলেন্সি সত্যিই আমরা। এখন যুদ্ধক্ষেত্রে।
গম্ভীর হয়ে উঠল প্রেসিডেন্টের মুখ।
মুখ খুলেছিল প্রেসিডেন্ট কিছু বলার জন্যে। তার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস কনস্টানটিনোসের মেয়ে জোনা ডেসপিনা বলল, যুদ্ধক্ষেত্রে সুযোগ থাকে না, এখানে সুযোগ আছে স্যার।
আহমদ মুসা হাসল। বলল, ঠিক ডেসপিনা, সুযোগ আছে। কিন্তু সময় নেই।
কথা শেষ করেই আহমদ মুসা তাকালো প্রেসিডেন্টের দিকে।
হ্যাঁ ভাই আহমদ মুসা। বৈঠকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। চলুন। বলল প্রেসিডেন্ট।
বলে চলতে শুরু করেই আবার দাঁড়াল প্রেসিডেন্ট। বলল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, মন্ত্রীসভার বাইরে কি কেউ থাকতে পারে মিটিং-এ?
এটা আপনার সিদ্ধান্ত এক্সিলেন্সি। তবে আমার মতে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দায়িত্বশীলরা এ বৈঠকে থাকতে পারেন। বলল আহমদ মুসা।
ধন্যবাদ ভাই আহমদ মুসা। আমিও এটাই চাচ্ছিলাম। প্রেসিডেন্ট বলল।
প্রেসিডেন্ট আহমদ মুসার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করল। তাদের পেছনে সবাই চলল মিটিং-এর জন্যে নির্ধারিত কক্ষের দিকে।
আহমদ মুসা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দিয়ে কথা শেষ করল।
বেশ বড় মিটিংরুমটি। লোকে ভর্তি। উপস্থিত দায়িত্বশীল সকলকেই মিটিং-এ ডাকা হয়েছে। ঘরে পিনপতন নীরবতা।
উদ্বেগে আচ্ছন্ন সকলের মুখ।
প্রেসিডেন্টের গম্ভীর মুখের স্থির দৃষ্টি আহমদ মুসার উপর নিবদ্ধ। আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে বেরিয়ে এল, তথ্যের সূত্র সম্পর্কে ভাই আহমদ মুসা নিশ্চয় নিশ্চিত?
গম্ভীর মুখ আহমদ মুসার। তাকাল সে প্রেসিডেন্টের দিকে। বলল, আমি নিশ্চিত এক্সিলেন্সি।
আহমদ মুসার কণ্ঠ থেকে কথাটি বের হওয়ার সাথে সাথে চাপা একটা আর্ত গুঞ্জন উঠল বিশাল ঘরটি জুড়ে।
প্রেসিডেন্টের স্থির দৃষ্টি তখনও আহমদ মুসার উপর নিবদ্ধ। বলল প্রেসিডেন্ট শান্ত-স্থির কণ্ঠে, ওরা তাহলে সময় এগিয়ে এনেছে! আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি তো তাহলে পিছিয়ে পড়ল! প্রেসিডেন্টের কণ্ঠ বেশ শুকনো।
ঠিক এক্সিলেন্সি। কোনোভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির কিছু খবর ওরা পেয়ে থাকতে পারে। সেজন্যেই সময় ওরা যথেষ্ট এগিয়ে এনেছে। আহমদ মুসা বলল।
আহমদ মুসা থামতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে উঠল, হাতে আছে মাত্র দুঘন্টা সময়। এ সময়ে আমাদের কি করার আছে! তার মানে আমরা, আমাদের। রত্নদ্বীপ…!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর কিছু বলতে পারলো না। তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল।
ভাই আহমদ মুসা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস কনস্টানটিনোস যে কথাটা বলতে পারলেন না, আমার মনে হয় এখানকার সবারই মনের কথা এটা। কিন্তু কিছু করার নেই, আমি তা মনে করি না। আহমদ মুসা ভাই এখন আপনি বলুন, আমরা এখন কি করতে পারি?
ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি। কি করতে পারি, সেটা আলোচনার জন্যেই এই বৈঠকের ব্যবস্থা। ওরা আমাদের অবরোধ করলে ওদের অবরুদ্ধ করে তাদের আক্রমণ ব্যর্থ করে দেবার যে প্রোগ্রাম হয়েছিল, সেটা এখন আর সম্ভব নয়। শেষ বিকল্প যেটা ছিল, সেটা হলো কোনো বন্ধু দেশের বিমান। বাহিনীর সাহায্য নেয়া। সে চেষ্টা আমি করেছি। কিন্তু সমস্যা দাঁড়িয়েছে এত বড় সিদ্ধান্ত এত অল্প সময়ে নেয়া এবং তা গোপন রাখা! প্রকাশ হয়ে পড়াকে তারা ভয় করছে। অবশেষে সৌদি আরব ও তুরস্ক তাদের সার্ভিস অফার করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে দুটি করে চারটি বোমারু বিমান যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু তাদেরকে ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি দিতে হবে আশেপাশের অন্য কোনো দেশে আলেকজান্দ্রিয়া সৌদি আরবকে এবং ত্রিপলি তুরস্কের বোমারু বিমানকে ল্যান্ডিং ও রিলোড ফ্যাসিলিটি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তাদের বিমানগুলো সাড়ে বারোটার আগে অ্যাকশনে আসতে পারবে না। থামল আহমদ মুসা।
কিন্তু রাত ১২টা থেকে আক্রমণ শুরু হবে। আধা ঘন্টায় আমাদের ছোট্ট দ্বীপ তো ধ্বংস হয়ে যাবে। বলল অর্থমন্ত্রী ইহুদি নেতা বেন নাহান আরমিনো।
ধ্বংস তো কিছু হবেই, কিন্তু দেশের জনগণকে রক্ষা করতে হবে। সে ব্যবস্থা করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ। বলল আহমদ মুসা।
কিন্তু কীভাবে? এ দেশের মানুষই তাদের প্রধান টার্গেট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস কনস্টানটিনোস বলল।
ওদের আক্রমণ হবে শহর, গ্রাম, লোকালয়, বাজার জনবহুল এমন অবস্থানগুলোকে টার্গেট করে। আগামী দুঘন্টার মধ্যে সব মানুষকে এসব স্থান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। বলল আহমদ মুসা।
এত মানুষকে কোথায় নেয়া হবে? প্রেসিডেন্ট বলল।
ওদের আক্রমণের যে পরিকল্পনা, তাতে দ্বীপের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো পূর্ব ও পশ্চিমের পাহাড়ের মধ্যবর্তী সবচেয়ে উঁচু অংশের পাদদেশ এলাকা। আমি হিসেব করে দেখেছি, চারদিকের গোলাবর্ষণ থেকে এই দুই স্থান নিরাপদ থাকবে। এছাড়া অবশিষ্ট লোকদের পাহাড় এলাকায় সরিয়ে নিতে হবে। বলল আহমদ মুসা।
নীরব মিটিং কক্ষটি। আহমদ মুসা থামলেও সঙ্গে সঙ্গে কেউ কথা বলল না। সকলের চোখে-মুখে ভাবনার চিহ্ন।
নীরবতা ভেঙে কথা বলল প্রেসিডেন্ট। বলল, ভাই আহমদ মুসা, আপনি। যা বলছেন, এটাই নিশ্চয় শেষ অপশন। তারপর কি? ওরা গোলাবর্ষণের পর নিশ্চয় দ্বীপে প্রবেশ করবে। তারা তো তখন পেয়ে যাবে আমাদের। বলল প্রেসিডেন্ট। তার কণ্ঠে হতাশার প্রাধান্য।
এক্সিলেন্সি এই দুঃসময়ে আল্লাহর উপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে। এবং যতটুকু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব সেটা আমাদের করতে হবে। প্রথমত, যতটা সম্ভব আমাদের লোকদের বাঁচাতে হবে। ওরা দ্বীপে প্রবেশ করার সুযোগ ইনশাআল্লাহ পাবে না। যে চারটি জংগী বিমান আসছে, তারা আটটা বোমা বহন করা ছাড়াও ওগুলো মেশিনগান সজ্জিত। সুতরাং আমরা খুব শীঘ্রই আক্রমণে যেতে পারব। আমাদের পাল্টা আক্রমণে ওদের আক্রমণ চলতে পারবে বলে মনে হয় না। বলল আহমদ মুসা। তার শান্ত ও নিরুদ্বিগ্ন কণ্ঠ।
ধন্যবাদ ভাই আহমদ মুসা। আমিসহ আমাদের জন্যে এই ধরনের ভয়াবহ সংকট এই প্রথম। তাই হঠাৎ করেই আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। ভাই আহমদ মুসার কথা আবার আমাদের মধ্যে সাহস ফিরিয়ে এনেছে। আল্লাহ ভরসা।
প্রেসিডেন্ট মুহূর্তকাল থেমে সবার উপর একবার চোখ বুলিয়ে বলল, ভাই আহমদ মুসা লোক সরিয়ে নেবার ব্যাপারে যা বলেছেন, তা সবাই বুঝেছেন?
হ্যাঁ আমরা বুঝেছি। সমস্বরে বলে উঠল সবাই।
আমি নির্দেশ দিচ্ছি এই মুহূর্ত থেকে লোক সরানোর কাজ শুরু করার জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিন সিনিয়র মন্ত্রী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কর্নেল জেনারেল রিদা আহমদ- এই চারজন লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার সব কাজের নির্দেশনা দেবেন ও সমন্বয় করবেন। আর ভাই আহমদ মুসা বাইরের সাহায্যের দিকটা দেখবেন। বলল প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্টের কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা বলে উঠল, এক্সিলেন্সি, জেনারেল রিদাকে কমিটির বাইরে রাখলে ভালো হয়। অন্যত্র তার প্রয়োজন আছে। আমি মনে করছি জেনারেল রিদা দ্বীপের দক্ষিণ এন্ট্রিপয়েন্টের দায়িত্বে থাকলে ভালো হবে, আমি থাকব উত্তর এন্ট্রিপয়েন্টে। আমাদের কামান সজ্জিত দুটি বড় পেট্রোল বোট রয়েছে। এ দুটির একটি থাকবে দক্ষিণের প্রবেশপথে, দ্বিতীয়টি থাকবে উত্তরের প্রবেশপথে। শত্রুরা যদি দ্বীপে আসে বা আকস্মিক ল্যান্ডিং করতে চায়, তাহলে ওদের বাধা দিতে হবে।
ধন্যবাদ, ভাই আহমদ মুসা ঠিক বলেছেন। এ বিষয়টা তো আমাদের মাথায় আসেনি। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। দ্বীপের গোটা জনশক্তি ভাই আহমদ মুসা এখন আপনার অধীনে। যাকে, যেভাবে, যেখানে ব্যবহার করবেন তা আপনার দায়িত্বে।
ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর লোকরা মানুষকে সরিয়ে নেবার কাজ করবে এবং মানুষের সাথেই থাকবে। আর। নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু লোককে জেনারেল রিদা সিলেকশন করবেন উত্তর ও দক্ষিণ প্রবেশপথের জন্যে। বলল আহমদ মুসা।
তাই হবে ভাই আহমদ মুসা।
বলেই প্রেসিডেন্ট তাকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জেনারেল রিদার দিকে। বলল, এবার আপনরা প্লিজ কাজে লেগে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেনারেল রিদাসহ মন্ত্রীরা আগেই উঠে দাঁড়িয়েছিল।
মহামান্য প্রেসিডেন্ট, ভাই আহমদ মুসা তোক সবানোর যে পরিকল্পনা। দিয়েছেন, সে অনুসারেই কাজ হবে। আমাদের জন্যে দোয়া করুন মহামান্য প্রেসিডেন্ট। বলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ কনস্টানটিনোস।
আসুন মি. কনস্টানটিনোস। ফি আমানিল্লাহ। প্রেসিডেন্ট বলল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যরা পা বাড়ালেন বেরুবার জন্যে। কর্নেল জেনারেল রিদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, স্যার মেজর পাওয়েল পাভেল আমার পক্ষ থেকে আপনার কমিটিকে সহায়তা করবে। আর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হামযা আনাস আমিনও আপনাদের সহযোগিতায় থাকবে।
ধন্যবাদ! বলে বেরিয়ে গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সাথীরা।
জেনারেল রিদা মুখোমুখি হলো আহমদ মুসার। বলল, স্যার, আমি মনে করছি জোনা ডেসপিনা ও ক্যাপ্টেন আলিয়ার নেতৃত্বে নিরাপত্তা সদস্যদের একটা টিম সর্বক্ষণ প্রেসিডেন্টকে অ্যাটেন্ড করবে। আর স্যার, আপনার সাথে মেজর যোবায়ের খালেদের নেতৃত্বে একটা নিরাপত্তা টিম থাকবে কামানবাহী পেট্রোল বোটে।
ধন্যবাদ জেনারেল, আপনার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। একটা জরুরি কথা জেনারেল রিদা। আমার মনে হয় ওরা দ্বীপে গোলাবর্ষণ শুরু করার পর অথবা সঙ্গে সঙ্গেই ওরা দ্বীপের দুটি প্রবেশপথ দখলে নেয়ার চেষ্টা করবে। আর তা দুই কারণে, এক. দ্বীপের কাউকে পালাতে না দেয়া, দুই. দ্বীপের অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট করা, যাতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ সম্ভব হয়। তিন দিক পুরোপুরি পর্যবেক্ষণে রাখার সুবিধার জন্যে আপনার কামানবাহী পেট্রোলশীপকে প্রবেশপথের মুখে ডান বা বাম দিকে মোতায়েন করতে।
বলে আহমদ মুসা পকেট থেকে একটা বিশেষ ধরনের গগলস বের করে জেনারেল রিদার হাতে দিয়ে বলল, এটা লেটেস্ট নাইটভিশন গগলস। অন্ধকারে আধা মাইল দূর পর্যন্ত দেখতে এটা আপনাকে সাহায্য করবে। বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চেষ্টা করবেন শত্রু যেন দ্বীপের প্রবেশপথের উপর আগে আক্রমণের সুযোগ না পায়। থামল আহমদ মুসা।
ধন্যবাদ স্যার। আপনার প্রতিটা আদেশ-নির্দেশ সব শক্তি দিয়ে কার্যকর করার চেষ্টা করব। আসছি স্যার, দোয়া করুন।
বলে জেনারেল প্রেসিডেন্টের কাছে বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ভাই আহমদ মুসা, আপনি শত্রুকে প্রথম আক্রমণের সুযোগ না দেয়ার কথা বললেন। কিন্তু রাত ১২টায় ওরাই তো আগে আক্রমণে আসছে। বলল প্রেসিডেন্ট।
দ্বীপের চারদিকের ঐ আক্রমণ ঠেকাবার এবং পাল্টা আক্রমণ চালানোর মতো উপায়-উপকরণ আমাদের নেই। আমি সে আক্রমণের কথা বলিনি। দ্বীপে প্রবেশের সময় ওদের আক্রমণের উপর পাল্টা আক্রমণ চালানোর কথা আমি বলেছি এক্সিলেন্সি এবং এটা সম্ভব। ওরা বাইরে থেকে কামান দাগুক, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ুক, কিন্তু ওরা যেন ওদের অপবিত্র পা এই দ্বীপের মাটিতে না রাখতে পারে। আহমদ মুসা বলল। আবেগে তার কণ্ঠ, ভারি।
আহমদ মুসার এই আবেগ সেখানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট, জোনা। ডেসপিনা, জাইনেব জাহরা, ক্যান্টেন আলিয়াসহ সবাইকে স্পর্শ করেছে।
প্রেসিডেন্টের চোখ-মুখ ভারি হয়ে উঠেছে। বলল, ভাই আহমদ মুসা, রত্নদ্বীপ আপনার জন্মভূমি নয়, আবাসভূমিও নয়। এরপরও এ অসহায় ছোট এই দ্বীপদেশকে এত ভালোবাসেন আপনি?
এক্সিলেন্সি, আল্লাহর বান্দার কাছে আল্লাহর গোটা দুনিয়া আবাসভূমি, জন্মভূমি। গোটা দুনিয়াকে সে ভালোবাসে, সব দেশকে তাই সে ভালোবাসবেই। বলল আহমদ মুসা।
আমরা কয়জন এটা জানি, কয়জন এটা মানি! প্রেসিডেন্ট বলল।
আল্লাহর রাসুল (স:)-এর সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীনরা সকলেই এটা যেমন জানতেন, তেমনি মানতেনও। গোটা দুনিয়াকে তারা তাদের ঘর বানিয়েছিলেন। তাই সেই সময়ের গোটা দুনিয়ায় তাদের কবর ছড়িয়ে। ছিটিয়ে আছে, তাদের নিজস্ব বাড়ি ঘরের স্বাভাবিকভাবেই কোনো ঠিকানা নেই। বলল আহমদ মুসা।
সে মহান ভাইয়েরা তো ছিলেন মহান মিশনারী। মানুষের শান্তি ও মুক্তির বাণী নিয়ে তারা গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন। আমরা তো তা নই। প্রেসিডেন্ট বলল।
আমরা তা নই বলে নীতি তো পাল্টে যায়নি। আল্লাহর বান্দাহদের একটা জন্মভূমি থাকে, একটা আবাসভূমি থাকে, কিন্তু গোটা দুনিয়াকে, সব দেশকে তারা নিজের জন্মভূমি, আবাসভূমির মতোই ভালোবাসে।
কথা শেষ করেই আহমদ মুসা তাকাল জোনা ডেসপিনা ও ক্যাপ্টেন আলিয়ার দিকে। বলল, মহামান্য প্রেসিডেন্টের সব দায়িত্ব তোমাদের উপর দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা তোমরা জান। সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবে।
প্রেসিডেন্টের দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা বলল, এক্সিলেন্সি, আমি আসছি। দোয়া করুন, দ্বীপ এবং দ্বীপের মানুষ যেন রক্ষা পায়।
হ্যাঁ ভাই আহমদ মুসা, আপনার উপর বিরাট দায়িত্ব। আপনাকে যেতেই হবে। আমার অনুমান মিথ্যা না হলে দ্বীপের উত্তরের প্রবেশপথটাই আক্রান্ত। হবে, যদি তারা দ্বীপে নামতে চায়। কারণ, দক্ষিণের প্রবেশপথের সামনের। পানি অগভীর, ডুবো পাহাড়-টিলায় ভরা। এ পথে চলাচলে অভ্যস্ত ও সতর্ক কেউ না হলে জেটি পাওয়ার আগেই আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। থাক এদিকের কথা। আপনার কাছে একটা কথা আমার খুবই জানতে ইচ্ছা করছে। সেটা হলো, পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনি কি ভাবছেন? বাস্তবে কি ঘটতে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনার নিজস্ব অনুমান কি?
গম্ভীর হয়ে উঠল আহমদ মুসা। বলল, আমরা যেসব দিক বিবেচনায় রেখে কথা বলি, তার উপরে রয়েছে আল্লাহর সিদ্ধান্ত। আমি আশা করি, আল্লাহ রত্নদ্বীপের নিরপরাধ মানুষকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ যে সুযোগ দিয়েছেন, তা সাধ্যমত ব্যবহারের আমরা চেষ্টা করেছি। আমার যে হিসাব। তাতে, শত্রুরা খুব বেশি হলে আধা ঘন্টা একতরফা গোলাবর্ষণের সুযোগ পাবে দ্বীপের উপর। আধা ঘন্টার মধ্যেই ওদের উপর চারটা বিমানের আক্রমণ শুরু হবে। এরপর শত্রুরা দ্বীপের উপর আক্রমণের সুযোগ আর পাবে না। আল্লাহ সহায় হলে, যারা দ্বীপ ধ্বংস করতে আসছে, তারাই ধ্বংস। হয়ে যাবে।
আমিন! বলে উঠল উপস্থিত সবাই।
আমি আসছি এক্সিলেন্সি। বলে আহমদ সালাম দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ঘর থেকে বেরুবার জন্যে।
জোনা ডেসপিনা, জাইনেব জাহরা ছুটে এসে আহমদ মুসার সামনে দাঁড়াল। ক্যাপ্টেন আলিয়াও এল তাদের পেছনে পেছনে। জোনা ডেসপিনা বলল, আমরা দশ মিনিট সময় চাই আপনার কাছে। ভেতরে চলুন। ডাক্তার-নার্সরা অপেক্ষা করছেন।
আহমদ মুসা ওদের দিকে না তাকিয়েই নির্বিকার কণ্ঠে বলল, চল। এদিকের কাজ শেষ। এখন থেকে ১২টা পর্যন্ত সময় আমার নিজস্ব। এখন সময় দিতে আমার আপত্তি নেই।
কিছুটা দূরে ডাক্তার-নার্সরা দাঁড়িয়েছিল।
আহমদ মুসা হাঁটতে লাগল তাদের দিকে। পেছনে জোনা ডেসপিনা ও অন্যরা।
স্যার, একটা প্রশ্ন করতে পারি? বিনীত কণ্ঠে বলল জোনা ডেসপিনা।
অনুমতির প্রয়োজন নেই। সামনে তাকানো আহমদ মুসা হাঁটতে হাঁটতেই বলল।
ধন্যবাদ স্যার। আমরা সবাই উদ্বিগ্ন, চিন্তিত, আতঙ্কিত। কিন্তু আপনার মধ্যে এর কিছুই দেখছি না কেন? বলল ডেসপিনা।
দেখ, আমি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধ্যের মধ্যে যা আছে, তা করেছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করবো সামনের অবশিষ্ট সময়েও। এর পরের কাজ আল্লাহর। সুতরাং আমার উদ্বিগ্ন হওয়ার কি আছে। আহমদ মুসা বলল।
পরের কাজ মানে ফলাফলের কথা বলছেন? তাহলে আপনি এবং আমাদের চিন্তা-ভাবনা, প্রচেষ্টা, সংগ্রাম সবই তো ফল লাভ করার জন্যে। বলল ডেসপিনা।
হ্যাঁ, ফল লাভ আমার লক্ষ্য। ফল-এর জন্যেই আমার কাজ-প্রচেষ্টা। কিন্তু ফল আনা আমার দায়িত্ব নয়। ফল দেয়া আল্লাহর এখতিয়ার। ফল আনার দায়িত্ব আমরা হাতে নিলে যেকোনো মূল্যে ফল নিয়ে আসার জন্যে আমরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে যেতাম। একেই বলে চরমপন্থা বা এক্সট্রিমিজম। এটা সুস্পষ্টভাবে সীমালংঘন। এটা আল্লাহ তার বান্দার জন্যে পছন্দ করেন না। আহমদ মুসা বলল।
কিছু বলতে যাচ্ছিল জাইনেব জাহরা।
তার আগেই দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তার কিছুটা সামনে এগিয়ে এসে বলল, স্যার সব রেডি, এদিকে আসুন।
ইমারজেন্সি সেকশনের দরজা পেরিয়ে ডাক্তার সিকিউরিটি জোন চিহ্নিত পাশের ঘরগুলোর দিকে এগোলো। একটা কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা খুলে আহমদ মুসাকে স্বাগত জানাল।
আহমদ মুসা প্রবেশ করল কক্ষে। পেছনে পেছনে নার্সরা। জোনা ডেসপিনারা ফেরত গেল প্রেসিডেন্টের কাছে।
ক্যাপ্টেন আলিয়া প্রেসিডেন্টের সামনে গিয়ে ছোট্ট একটা বাউ করে বলল, এক্সিলেন্সি বাইরে প্রটোকল রেডি। আমাদের যেতে হয় এক্সিলেন্সি।
প্রেসিডেন্টের চোখে-মুখে চিন্তার ছাপ। বলল, চলো ক্যাপ্টেন। কিন্ত আমার চিন্তা হচ্ছে আহমদ মুসার জন্যে। এতটা আহত, এই অবস্থায় রত্নদ্বীপের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উত্তরের প্রবেশপথ রক্ষার দায়িত্ব তিনি নিলেন? অনেকটা স্বগতকণ্ঠে কথাগুলো বলে প্রেসিডেন্ট পা বাড়াল বাইরে বেরুবার জন্যে।
