01 02 03 04 05 06 07 08 09 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53

ডাইরীর সাদা বুক। খস্ খস্ শব্দ তুলে এগিয়ে চলেছে একটি কলমঃ

‘... সিং কিয়াং-এর ধুসর মরুভূমি। দূরে উত্তর দিগন্তের তিয়েনশান পর্বতমালা কালো রেখার মত দাঁড়িয়ে আছে। অর্থহীনভাবে শুধু চেয়ে থাকি চারিদিকে। কোন কাজ নেই। জীবনের গতি যেন আমাদের স্তব্ধ হয়ে গেছে। আজ ক’দিন হল যুগ-যুগান্তরের ভিটে মাটি ছেড়ে আমরা ৫ হাজার মুসলমান আশ্রয় নিয়েছি আমাদের জাতীয় ভাইদের কাছে এ সুদূর মরুদ্যানে। অত্যাচারীর চকচকে রক্ত পিপাসু বেয়নেট আর রাইফেলের গলিত সীসা ছিনিয়ে নিয়েছে আমাদের বহু ভাই বহু বোনকে। চোখে আর কারো পানি নেই। শুকিয়ে গেছে অশ্রুর ধারা।

মরু-ঘেরা এ দূর্গম মরুদ্যানে এসে আমাদের যারা একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল, ভুল ভেঙ্গে গেল তাদের অচিরেই। একদিন সকালে উঠে শুনলাম এদেশের সে ফেরাউন বাহিনীও এগিয়ে আসছে এদিকে। আব্ব চিৎকার করে বললেন, ‘আমরা বাঘের মুখ থেকে খসে কশাই এর হাতে পড়েছি। আমাদের মাতৃভূমি তুর্কিস্তানের একখন্ড ভূমিতেও আজ আমাদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দিবে না শয়তানরা। বুঝলাম আব্বার সহ্য নিঃশেষ হতে চলেছে।

আব্বার আয়োজন শুরু হ’ল যাত্রার। নারী আর শিশুদের চোখের পানিতে ভারি হয়ে উঠল মরুভূমির শুষ্ক বাতাস। এবার শুধু আমরাই নই, মরুদ্যান ও আশে পাশের আরো ৪৫ হাজার মুসলিম নর নারীর উদ্বাস্তু মিছিল এসে শামিল হল আমাদের সাথে।

আমার চার বছরের ভাই ইউসুফ এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমরা আবার কোথায় যাব ভাইজান! বাড়ী গেলে সেই মানুষরা যে আবার মারবে আমাদের? আমি অভয় দিয়ে বললাম, ‘না ভাই আমরা বাড়ী যাচ্ছি না।’

কিন্তু কোথায় যাচ্ছি বলতে পারলাম না। কোথায় যাব আমরা? তাজিকিস্তান কিংবা উজবেকিস্তান। সেতো আর এক সিংকিয়াং। অবশেষে সবাই বুক ভরা আশা নিয়ে তাকালো দক্ষিণের দিকে। উচ্চারিত হলো ভারতের নাম-মুহাম্মদ বিন কাসিমের এ ভারত, মাহমুদ, বাবর, ঈসা খাঁ, টিপু, তিতুমীরের এ ভারত।

মরুভূমির সাদা বালুর উপর দিয়ে এগিয়ে চলল ছিন্নমূল মানুষের আদিগন্ত মিছিল। পিছনে পড়ে রইল সহস্র শতাব্দির স্মৃতি বিজড়িত মাতৃভূমি সিংকিয়াং। কেন এমন হ’ল? কি করেছি আমরা? শুধু তো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চেয়েছি। মানুষের এ চাওয়া তো চিরন্তন। মুসলমান হওয়ার অপরাধে কি এ অধিকার আমাদের থাকবে না?

কয়েক সপ্তাহ কেটে গেল। ধীরে ধীরে তিব্বতের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা। হঠাৎ একদিন কয়েকটি সামরিক বিমান খুব নীচু দিয়ে আমাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল গোটা কাফেলায়। তাহলে কি ওরা এখনো পিছু ছাড়েনি আমাদের?

মরুভূমির নিঝুম-নিস্তব্ধ রাত। বাতাসের একটানা শোঁ শোঁ নিঃশ্বাস নিস্তব্ধতার মাঝে তরঙ্গ তুলছে শুধু। উপরে লক্ষ কোটি তারার মেলা। কাফেলার পরিশ্রান্ত পথিকরা কেউ জেগে নেই বোধ হয়। হঠাৎ উত্তর দিগন্ত থেকে ভেসে এল কয়েকটি জেট ইঞ্জিনের ভয়ঙ্কর শব্দ। তারপর বুম! বুম! বুম......

চিৎকার ছুটোছুটি আর্তনাদে গভীর রাত্রির নিশুতি প্রহর ভেঙ্গে পড়ল টুকরো টুকরো হয়ে। ঘুম ভেঙে গেল আমার। বিছানায় উঠে বসেছি। বোবা হয়ে গেছি যেন। আব্বার চিৎকার ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেলাম। নিজের চোখকে বিশ্বাস হয় না আমার। কি বিভৎস সে দৃশ্য! আব্বার তাবু জ্বলছে। টলতে টলতে আব্বা ইউসুফকে টেনে নিয়ে আসছেন। ইউসুফের কোমর থেকে পিছন দিকটা নেই, কয়লার মত হয়ে গেছে ওর শরীর। একটি অষ্ফুট চিৎকারই শুধু আমার মুখ থেকে বেরুল ...।

যখন জ্ঞান ফিরল, বেলা হয়ে গেছে তখন অনেক। আব্বার দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি আমায় ডাকছেন। আমি কাছে যেতেই তিনি বললেন ‘মুসা, কাফেলা নিয়ে যত সত্ত্বর পার এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাও। মনে .....?

আমি বাধা দিয়ে বললাম, এ সব কি বলছেন আব্বা? আপনি ভাল হয়ে যাবেন। আব্বা ম্লান হাসলেন। বললেন, তাঁর ডাক এলে কেউ সে ডাকে সাড়া না দিয়ে কি পারে মুসা?

একটু থেমে তিনি বললেন, মুসা, ইউসুফ নাই; দুঃখ করো না। পৃথিবীর সমস্ত নিপীড়িত শিশুর মাঝে তোমার ইউসুফকে খুঁজে পাবে। তোমার মা, বাবা নেই বলে কখনো ভেবনা, পৃথিবীর নির্যাতিত মানষের মধ্যে তোমার মা-বাবাকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করো।’ অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়ল আব্বার কণ্ঠ। আব্বার মুখ থেকে অষ্ফুটে তাঁর কথা বেরিয়ে এল, মনে রেখ মুসা; শুধু সিংকিয়াং এর মুসলমানদের একার এ দূর্দশা নয়, পৃথিবীর কোটি কোটি তোমার ভাই-বোন এমনিভাবেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। .....


‘সাইমুম সিরিজ’ শ্রদ্ধেয় ‘আবুল আসাদ’ কর্তৃক লিখিত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ। অন্য সিরিজের মত এটা শুধু থ্রিলার সিরিজ নয়। একজন পাঠক ইতিহাস, ভুগোল, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বিশেষ করে ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামী বিশ্ব, বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে এই সিরিজ পড়ে। পাঠককে রোমাঞ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও শিক্ষামূলক জ্ঞানের মাধ্যমে পাঠকের মনের মধ্যে নৈতিক চিন্তাধারার বিকাশ ঘটানো এবং তার মাঝে ক্রমে ক্রমে মনুষ্যত্ব এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার ভাবনাকে সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে লেখা এই সিরিজটি। এই সিরিজ একজন পাঠকের হৃদয়ে ঈমানের আলো প্রজ্জ্বলিত করে। শ্রদ্ধেয় আবুল আসাদ ১৯৭৬ সালে ‘অপারেশন তেলআবিব-১’ এর মাধ্যমে এই সিরিজের সূচনা করেন।


আমাদের মুসলিম উম্মাহর নতুন প্রজন্ম ইসলাম বিদ্বেষীদের বিভিন্ন ধরণের অসুস্থ সংস্কৃতি তথা অশ্লীল নোভেল নাটক ও সিনেমার জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে। তারা ইসলাম বিদ্বেষীদের হাজারো পাতা ফাদে আটকে পড়ে নিজেদের মুসলিম স্বকীয়তা ভুলতে শুরু করেছে। অসুস্থধারার সিনেমা ও উপন্যাস যখন নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে যুব সমাজকে ধ্বংসের অতল গহ্বরের দিকে ধাবিত করছিল ঠিক সেই নাজুক মুহুর্তে যুব সমাজের কাছে নিজেদের স্বকীয়তাকে ধরে রাখার উপর গুরুত্ব দিয়ে যুগের অকুতোভয় সিপাহসালাররা এগিয়ে এসেছেন সুস্থ ধারার সংস্কৃতি গান, উপন্যাস ও নাটক নিয়ে।


ইসলামিক স্কলাররা বলে থাকেন বর্তমান যুগে মানুষকে সিনেমার বিভিন্ন সিরিয়াল ও অন্যান্য অসুস্থ সংস্কৃতি থেকে মুক্ত রাখতে ঠিক একই ধরণের সুস্থ ধারার সিরিয়াল ও সুস্থ সংস্কৃতি তাদেরকে উপহার দিতে হবে। তবেই, সহজে জাতিকে সেগুলোর মরণ ছোবল থেকে মুক্ত রাখা যাবে। বাংলাভাষী মুসলিম যুব সমাজের জন্য এমনি কিছু অকুতোভয় সিপাহসালার অসুস্থ সংস্কৃতির বিপরীতে সুস্থধারার সংস্কৃতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন গান, উপন্যাস ও নাটক ইত্যাদি নিয়ে। তবে, সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।


মুসলিম সিপাহসালারগণ বাংলাভাষী যুব সমাজকে যেসব সুস্থধারার উপন্যাস উপহার দিয়েছেন তন্মধ্যে ‘সাইমুম সিরিজ’ তরুন সমাজের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এ সিরিজের লেখক মুহতারাম আবুল আসাদ বলেছেন- সাইমুম সিরিজটা আসলে আমি লিখেছি এমন একটা সময়ে, আসলে যখন আমি পরিকল্পনা করি ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে আনতে হবে। তখন মনে করেছি কাজটা কঠিন হবে। এই জন্য আমি মনে একটা কিছু লিখতে চাই যাতে নতুন জেনারেশনের মধ্যে আমরা যে আলাদা জাতি, আমরা মুসলমান, আমাদের যে আলাদা পরিচয় আছে,- এই জিনিসটা যাতে করে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সেই বিষয়টাকে সামনে রেখে আমি সাইমুম সিরিজের পরিকল্পনা করি। এবং আমি চেষ্টা করেছি যে, এই সাজেশন সৃষ্টির জন্য যা যা করার দরকার, এই যেমন এর মধ্যে সবকিছুই আছে রোমাঞ্চ আছে, হিস্ট্রি আছে, তারপর এখানে গোয়েন্দা উপন্যাসের সব উপাদানই আছে। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো সবাইকে একটা দিকনির্দেশনা দেয়া। নিজের আত্মপরিচয়ের দিকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের এখান থেকেই (এই দায়িত্ববোধ থেকেই) আমি আমার বইতে এই উদ্দেশ্য যাতে পূরণ হয় সেভাবেই সিরিজটিকে এগিয়ে নিচ্ছি।


Saimum Series

From Wikipedia, the free encyclopedia

Saimum Series (Bengali: সাইমুম সিরিজ) written by Abul Asad is a popular novel series of Bangladesh. Unlike other series of its kind Saimum not only thrills its readers but also provides various informative and educative stuffs. But above all, it stimulates into the mind of its reader the sense of morality and gradually make them think to work for thebetterment of humanity and peace. It also helps the readers to learn knowledge on History, geography and culture of many countries. Particularly the History of Islam, geography of Muslim countries and territories where Muslims live and the cultures of Muslims. A reader can know about the present condition of Islam in the world. Abul Asad starts Saimum on 1976 with “Operation telabib-1”. This series has inflamed the love of Islam in many youths heart.


সাইমুম সিরিজের এই ওয়েবসাইটটি সাইমুম লেখক শ্রদ্ধেয় "আবুল আসাদ" স্যারের অনুমতিক্রমে পরিচালিত। আমরা যারা সফটকপি থেকে সাইমুম পড়ছি, তাদের আরেকটা দায়িত্ব আছে লেখক এবং প্রকাশক কে সহয়তা করার। সবাই চেষ্টা করি যেন অন্তত পাচটি হার্ড কপি উপহার হিসেবে কাউকে দেয়ার।


Top